ভোটের ফল বেরনোর পরেই বলেছিলেন, তিনি এবার থেকে দলকে বেশি সময় দেবেন। বিজেপি-র আগ্রসন থেকে দলের ভাঙন বাঁচাতে যে তাঁকেই পথে নামতে হবে তা জানতেন মুখ্যমন্ত্রী। দেরি না করে তাই বৃহস্পতিবারই নৈহাটি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নৈহাটি, ভাটপাড়া এলাকায় ভোটের পর থেকে যে তৃণমূল কর্মীরা ঘরছাড়া হয়ে রয়েছেন, তাঁদেরকেই বাড়ি ফেরাতে যাচ্ছেন মমতা।

লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্র এবং বিশেষ করে ভাটপাড়ায় বিজেপি-র দাপটে কোণঠাসা তৃণমূল কর্মীরা। অভিযোগ, বিজেপি-র আক্রমণে সেখানে শাসক দলের বহু কর্মী পরিবার নিয়ে  ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। অনেকের বাড়ি ঘরও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিংহের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই ব্যারাকপুর লোকসভা, ভাটপাড়া বিধানসভা দখল করার পরে নৈহাটি, ভাটপাড়া, হালিশহর এবং কাঁচরাপাড়া পুরসভা দখল করে নিয়েছে বিজেপি। 

এই অবস্থায় ওই এলাকার তৃণমূল কর্মীদের মনোবল তলানিতে এসে ঠেকেছে। শাসক দল সূত্রে খবর, নৈহাটি এবং তার আশপাশের এলাকায় কয়েকশো তৃণমূল কর্মী ঘরছাড়া। তাই দেরি না করে এবার নিজেই পথে নেমে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন মমতা।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার নৈহাটি পুরসভার সামনে বিক্ষোভের আয়োজন করেছে তৃণমূল। বেলা একটা নাগাদ সেখানেই যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-র হামলার প্রতিবাদে সত্যাগ্রহ  আন্দোলনও শুরু করতে পারেন তিনি। নিজে সামনে থেকে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে চান তৃণমূল নেত্রী। তার উপস্থিতি যে ফের দলের কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর পাশাপাশি বিজেপি নেতা, কর্মীদেরও চাপে ফেলবে, তা ভালই জানেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে তিনি বিজেপি-কে বার্তা দিয়ে রাখলেন, রাজ্যের কোথাও দলের কর্মীদের উপর হামলা হলে তিনি নিজে গিয়ে তা প্রতিরোধের চেষ্টা করবেন। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলের অনেক ঘরছাড়া তৃণমূল কর্মী নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র সঙ্গেও দেখা করে গিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল মমতার। কিন্তু বাংলায় গত কয়েক বছরে নিহত বিজেপি-র দলীয় কর্মী-সমর্থকদের পরিবারকে সেই অনুষ্ঠানে নিয়ে যাাওয়ার প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট করেছেন মমতা। নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে নিহত দলীয় কর্মীদের পরিবারকে হাজির করিয়ে বিজেপি যেমন তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিতে চাইছে, মমতাও নৈহাটি গিয়ে একইভাবে নিজের সমর্থক, কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করবেন। 

অতীতেও বিরোধী নেত্রী থাকার সময় এই কায়দাতেই দলের আক্রান্ত নেতা কর্মীদর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের লড়াইয়ে উদ্ধুদ্ধ করতেন মমতা। আগামী বছরের পুরভোট এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে ফের কর্মীদের একই ধরনের মরিয়া মনোভাব তাঁর প্রয়োজন, তা ভালই জানেন মুখ্যমন্ত্রী।