চতুর্থ দফার ভোট প্রক্রিয়া মিটল। এদিন ৯ রাজ্য়ের ৭১টি আসনে ভোট হলো। কিন্তু চতুর্থ দফার ভোটে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকল বাংলার ভোট। সারাদিন ধরেই রিগিং, ভাঙচুর, গুলি চলার অভিযোগ উঠল। 

পশ্চিমবঙ্গের মোট ৮টি কেন্দ্রে ভোট হয় এই দিন।এর মধ্য়ে আসানসোল ছিল তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ের কাছেই অন্য়তম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। গত লোকসভায় বিজেপির থেকে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছেন মুনমুন সেন।

ভোট প্রক্রিয়া ঘিরে রণক্ষেত্রের আকার নেয় আসানসোল। আসানসোলের বারাবনিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্য়ে বচসার খবর পেলে ঘটনাস্থলে যান বাবুল। সেখানে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর হয়। পুলিশকর্মীরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। অন্য়দিকে তৃণমূল কর্মীরও মাথা ফাটে। এছাড়াও আসানসোলের একাধিক বুথে ছাপ্পা ভোটেরও অভিযোগ ওঠে। এদের মধ্য়ে আসানসোলের জেমুয়ার ভাদুবাল়লায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। কিন্তু এত কিছু ঘটে গেলেও আসানসোলে বসেও কিছু টের পাননি তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। এক সংবাদমাধ্য়মের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ‘বেড টি ’ পেতে দেরি হওয়ায় তা়ড়াতাড়ি ঘুম ভাঙেনি। আর তাই গণ্ডগোলের কোনও খবরও পাননি তিনি। কিন্তু আগের বার আসানসোল কেন্দ্র হারালেও এবারে জেতার জন্য় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

এদিন বহরমপুরেও কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীরা ছাপ্পা ভোট দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধীর চৌধুরী জানান, ভোট দিতে গিয়ে বুথে বেশ কয়েকজনকে তিনি দেখেন। কিন্তু পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হলেই চম্পট দেন তাঁরা। ধাওয়া করলে মারধর পর্যন্ত ঘটনা গড়ায়।

অন্য়দিকে মঙ্গলকোটের দুটি ভোটে ভোটাররা কাকে ভোট দিচ্ছেন তা চিহ্নিত করার অভিযোগ ওঠে তৃণমুলের বিরুদ্ধে। তৃণমূল কর্মীরা ইভিএম মেশিনে তৃণমূল প্রতীকের উপরে আতর মাখিয়ে রাখে বলে অভিযোগ ওঠে। ভোট দেওয়ার পরেই ভোটারদের আঙুল শুঁখে দেখেন তৃণমূলের কর্মীরা।

নানুরেও ভোট ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিজেপি সমর্থকরা দাবি করেন, আগের দিন থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়েছেন তৃণমূল কর্মীরা। এর জেরেই আজ ভোটের দিন লাঠি নিয়ে বেরোন বিজেপি সমর্থকরা। ভাঙচুরও চালান। কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রাণপন চেষ্টা করেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। বীরভুমেরবা

বীরভুমেও সকাল থেকে একাধিক বুথে ইভিএম মেশিন খারাপ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সেই নিয়ে বিভিন্ন বুথে বচসা হয়।

দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়। বুথের মধ্য়েই গুলি চালানোর অভি়োগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও তাদের দাবি, আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালাতে হয়। এর পরে বেশ কিছুক্ষণ ভোট স্থগিত থাকে। এই কেন্দ্র থেকে তৃণনমূলের হয়ে দাঁড়িয়েছেন শতাব্দী রায়। বীরভুমের বুথে ফোনে কথা বলতে দেখা যায় বিজেপির দুধকুমার মণ্ডলকে। তাঁরে শো-কজ করা হয়েছে।

বীরভুমে ভোট দেওয়ার সময়ে নজরবন্দি হন অনুব্রত মণ্ডল। যার জেরে তাঁর ফোনও জমা দিতে হয়। যদিও তাঁর দাবি ভোট ভাল ভাবেই হচ্ছে।

উল্লেখ্য়, দুপুর তিনটে পর্যন্ত ভোটের হার ৬৬ শতাংশ।