সারা দেশ জুড়ে ভোটের উষ্ণ হাওয়া বইছে। সাত দফার লোকসভা নির্বাচনের মধ্য়ে সম্পন্ন হয়েছে 4 টি দফার ভোট। চতুর্থ দফায় বার বার খবরে উঠে এসেছে  বাংলার ভোট। সেই চতুর্থ দফার ভোট মিটতেই দমদম লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কর্মীদের উপরে। 

মঙ্গলবার দমদম লোকসভা কেন্দ্রের নিউটাউন গোবিন্দ নগরে পথ সভার জন্য় মঞ্চ তৈরি করার সময়ে বিজেপি কর্মীদেকর উপরে তৃণমূল কর্মীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ। এই কেন্দ্রয় বিজেপি থেকে দাঁড়িয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য় ছড়ায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।

বিকেল পাঁচটায় পথ সভা হওয়ার কথা নিউ টাউনের এই এলাকায়। সভায় শমীক ভট্টাচার্যের আসার কথা ছিল। অভিযোগ বাইকে করে প্রায় কুড়ি-পঁচিশ জন তৃণমুল কর্মী এসে বাধা দেয় ও মারধর করে। দমদম কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন সৌগত রায়। 

অন্য়দিকে, কালনার নাদনঘাট নৌ পাড়া গ্রামে সোমবার গভীর রাতে তৃণমূল কর্মীদের বাঁশ, লাঠি ও ইঁট দিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠলো বিজেপির বিরুদ্ধে।  আহত তিন তৃণমূল কর্মীদের কালনা সুপার স্পেশালিটি হসপিটালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা করে তৃণমূলের কর্মীদের উপর। এমনকী, তৃণমূলের কর্মীদের লক্ষ করে ইট ছুড়ে তৃণমূলের কর্মীদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। 

প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাত চতুর্থ দফার ভোটের দিন বাংলার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট ঘিরে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এর মধ্য়ে আসালসোলের বিভিন্ন এলাকা রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। আসানসোলের বারাবনিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্য়ে বচসার খবর পেলে ঘটনাস্থলে যান বাবুল। সেখানে তাঁর গাড়ি ভাঙচুর হয়। পুলিশকর্মীরা তাঁকে সরিয়ে নিয়ে যান। অন্য়দিকে তৃণমূল কর্মীরও মাথা ফাটে। এছাড়াও আসানসোলের একাধিক বুথে ছাপ্পা ভোটেরও অভিযোগ ওঠে। এদের মধ্য়ে আসানসোলের জেমুয়ার ভাদুবাল়লায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। কিন্তু এত কিছু ঘটে গেলেও আসানসোলে বসেও কিছু টের পাননি তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন। এক সংবাদমাধ্য়মের কাছে তিনি জানিয়েছেন, ‘বেড টি ’ পেতে দেরি হওয়ায় তা়ড়াতাড়ি ঘুম ভাঙেনি। আর তাই গণ্ডগোলের কোনও খবরও পাননি তিনি। কিন্তু আগের বার আসানসোল কেন্দ্র হারালেও এবারে জেতার জন্য় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

বীরভুমেও সকাল থেকে একাধিক বুথে ইভিএম মেশিন খারাপ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। সেই নিয়ে বিভিন্ন বুথে বচসা হয়। দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়। বুথের মধ্য়েই গুলি চালানোর অভি়োগ ওঠে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। যদিও তাদের দাবি, আত্মরক্ষার স্বার্থে গুলি চালাতে হয়। এর পরে বেশ কিছুক্ষণ ভোট স্থগিত থাকে।

এদিন বহরমপুরেও কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীর উপস্থিতিতেই তৃণমূল কর্মীরা ছাপ্পা ভোট দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অধীর চৌধুরী জানান, ভোট দিতে গিয়ে বুথে বেশ কয়েকজনকে তিনি দেখেন। কিন্তু পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হলেই চম্পট দেন তাঁরা। ধাওয়া করলে মারধর পর্যন্ত ঘটনা গড়ায়।