হিন্দু ছেলেকে বিয়ে করে ও মাথায় সিঁদুর পরে শপথ গ্রহণ করায় ইমামের সমালোচনার শিকার হয়েছেন নুসরত জাহান। এর জন্য বিজেপির অনেকে বসিরহাটের সাংসদের সমর্থনে কথা বলেছেন। কিন্তু এখনও তৃণমূলের নেতৃত্ব-সহ তেমন কেউ এই প্রসঙ্গে ‌মুখ খোলেননি। অবশেষে বন্ধু তথা যাদবপুর কেন্দ্রের সাংসদ মিমি‌ চক্রবর্তী নুসরতের পক্ষে টুইট করলেন। 

সংসদে একমাথা সিঁদুর, হাতে চূড়া নিয়ে নিজেকে নুসরত জাহান রুহি জৈন বলে পরিচয় দেন সাংসদ। তার কিছুদিনের মধ্য়ে নুসরতের সমালোচনা করে ইমাম বলেন,  ইসলামে একজন মুসলিমের শুধু একজন মুসলিমকেই বিয়ে করার অধিকার আছে। এমনকী ইমাম এও বলেছেন, নুসরত একজন অভিনেত্রী। অভিনেত্রীরা ধর্ম মানেন না। যা ইচ্ছা তা করেন।

এর জবাব নুসরত নিজেই তাঁর টুইটারে দেন। তিনি লেখেন, ভারত সকলকে নিয়ে। জাত ধর্ম ভেদাভেদের উর্ধ্বে যে ভারত, আমি সেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করি। আমি সমস্ত ধর্মকে সম্মান করি। আমি এখনও মুসলিমই আছি। আর আমি কী পরব সে ব্যাপারে অন্য কারও মন্তব্য করাই উচিত নয়। বিশ্বাস পোশাকের উপরে। বিশ্বাস মানে সমস্ত ধর্মেরই সুশিক্ষাগুলিকে গ্রহণ করে তা পালন করা। 

নুসরতের এই টুইটটিই মিমি শেয়ার করেন। শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, আমরা ভারতীয় আর সেটাই আমাদের একমাত্র পরিচয়। গর্বিত ভারতীয় আছি ও থাকব। অনেক ভালোবাসা নুসরত জাহান। 

 

 

তৃণমূল থেকে ঘাটাল সাংসদ দেবও নুসরতকে সমর্থন করেছেন। বিজেপি শিবির থেকে রায়গঞ্জের সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী, হুগলি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় নুসরতের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছেন। 

দেবশ্রী চৌধুরী বলেছেন, এটা পাকিস্তান নয়। এখানে কারও সাংবিধানিক অধিকারের উপরে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। 

বিজেপির আরও দুই সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় ও বাবুল সুপ্রিয়ও নুসরত জাহানের হয়ে কথা বলেছেন। লকেট বলেছেন, সিঁদুর পরবেন নাকি শাঁখা পরবেন, শপথ গ্রহণে কী পোশাক পরবেন সেটাও কি জিজ্ঞাসা করে পরতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নুসরতের পাশে দাঁড়ানো উচিত। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি ঠিক না।