ভোটের দিনেও শীতলকুচির মত ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এই রাজ্য। ভোট পর্ব শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েগেছে। বাংলার ভোট সন্ত্রাস বর্তমানে অলোচনার অন্যতম বিষয় নেটদুনিয়ায়। অনেকেই আবার ভোট সন্ত্রাসের একাধিক ছবি পোস্ট করে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এই রাজ্যে হিন্দুদের অবস্থা নিয়ে। অনেকেই বলছেন আগামী পাঁচ বছর এই রাজ্যে মোটেও নিরাপদ নন হিন্দুরা। তেমনই একটি ছবি রীতিমত ভাইরাল নেট দুনিয়ায়। কিন্তু সেই ছবিটি সত্যি ভোট সন্ত্রাসের? সেটাই খতিয়ে দেখছে এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। 

প্রশাসন সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের বলি ১১। বিজেপি দাবি করেছে তাদের ৬ পার্টি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তৃণমূল ও অন্যন্য রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করেছে তাদের ৪ জন দলীয় কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। রাজ্যে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ও। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও রিপোর্ট তলব করেছে। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি হিংসার ছবি। আর সেই ছবিটে চলতি বছর ভোট সন্ত্রাসের ছবি বলেও দাবি করা হয়েছে। 
 

প্রিয়াঙ্ক কাশ্যপ নামের এক মহিলা সোশ্যাল মি়ডিয়ায় একটি  অগগ্নিগর্ভ ছবি পোস্ট করেন। তাঁর দাবি ছবিটি বাংলার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির। তিনি আরও বলেন সেখানে মোটেও নিরাপদে নেই হিন্দুরা। আগামী পাঁচ বছর রাজ্যে কী হবে? তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নেটিজেন। 

অনেকটাই একই ছবি পোস্ট করেন বিজেপির আইটি সেলের এক কর্তা। নেট দুনিয়ায় তিনি পরিচিত সিটিআর নির্মাল কুমার নামে। তিনিও বেশ কয়েকটি টুইট করেন রাজ্যের ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টেও তিনি তিনি প্রিয়াঙ্ক কাশ্যপের মতই উষ্মা প্রকাশ করেন আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিরকম থাকবে- তা নিয়ে। তিনি বাংলার সন্ত্রাস নিয়ে একটি নয় একাধিক বার্তা দিয়েছেন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে। 

 তামিল এক সাংবাদিক আশ্রিতা ভি  একই ছবি পোস্ট করেন। আর সেখানে তিনি ও রাজ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। 


এশিয়ানেট নিউট বাংলার ফ্যাক্ট চেক টিম ছবিটি খতিয়ে দেখেছে। তাতে  দেখা গেছে এই ছবিটি এই রাজ্যের। কিন্তু এই ছবিটি চলতি বছর ভোট সন্ত্রাসের। ছবিটি ২০১৮ সালের, ৩০এ এপ্রিলের তোলা হয়েছিল। ছবিটি ছিল বর্ধমানের রানিগঞ্জের। সেই বছর রাম নবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। সংঘর্ষ প্রায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে ছিল। ছবিটি তুলেছিল সংবাদ সংস্থা পিটিআই। আর ছবিটি ছাপা হয়েছিল হিন্দুস্থান টাইমসে। 


রাম নবমীর সেই ঘটনা এখনও বঙ্গবাসী ভোলেনি। কারণ সেই সময় স্থানীয় ইমাম তাঁর মাত্র ১৬ বছরের সন্তানকে হারিয়েছিলেন সংন্ত্রাসের কারণে। কিন্তু তারপরেও সেই ইমাম শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। একই সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল ইন্ডিয়া টুডে- প্রত্রিকায়। 

তবে এই ছবিটে চলতি বছর রাজ্যে ভোট সন্ত্রাসের নামে প্রচারিত হওয়ায় পাল্টা অনেকেই টুইট করেছেন। তাঁরা বিষয়টি সামনে এনেছেন। একই সঙ্গে দাবি করেছেন ছবিটি তিন বছর আগে রানিগঞ্জে রাম নবমীর দিয়ে সংঘটিত হওয়া সন্ত্রাসের। এটি মোটেও ভোট পরবর্তী হিংসার নয়। 


বাংলার ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস নেটদুনিয়ায় হট টপিক হলেও এই জাতীয় ভুয়ো খবর থেকে সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা সহ গোটা দেশই অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলেছে। তাই এই জাতীয় ভুয়ো খবর বা অগ্নিগর্ভ ছবি নতুন করে অশান্তি ডেকে আনতে পারে।