চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা প্রকৃত অর্থেই জমে উঠেছে। প্রথমদিন পিএসজি-র রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালেও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী রইলো ফুটবলপ্রেমীরা। প্রতিযোগিতার অন্যতম অভিজ্ঞ আর এই মরশুমের শেষ দিকে টানা ১৮ টি ম্যাচে অপরাজিত থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ শেষ পর্যন্ত হার মানতে বাধ্য হল সদ্য সমাপ্ত বুন্দেশলিগায় তৃতীয় হওয়া দল আর বি লেপজিগের কাছে। ৯ বছর জার্মানি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ অথবা বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড ছাড়া কোনও দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে পৌঁছলো। শেষ বার ২০১১ সালে বুরুশিয়া বা বায়ার্ন বাদে জার্মানির দল হিসেবে সেমিতে উঠেছিল শালকে। 

প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীতা দেখা গেলেও গোল আসেনি। বরাবরের মতো দিয়েগো সিমিওনে তার দলকে নেতিবাচক ফুটবল খেলার নির্দেশ দেন। তবে অ্যাটলেটিকোর শারীরিক ফুটবলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করছিল লেপজিগ। দ্বিতীয়ার্ধে ৫০ মিনিটে ড্যানি ওলমো-র গোলে এগিয়ে যায় লেপজিগ। চূড়ান্ত ফ্লপ দিয়েগো কোস্তার বদলে মাঠে নামা তরুণ পর্তুগিজ জোয়াও ফেলিক্স-এর পেনাল্টিতে ৭১ মিনিটে সমতায় ফেরে অ্যাটলেটিকো। শেষে ৮৮ মিনিটের মাথায় একটি দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে টাইলার অ্যাডামস-এর গোলে ম্যাচ পকেটে ভরে নেয় লেপজিগ। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলকিপার জান ওবল‍্যাকের কিছু করার ছিল না, কারণ অ্যাডামস-এর শট আতলেতিকো ডিফেন্ডার সাভিচ-এর গায়ে লেগে অনেকটা দিক-পরিবর্তন করে গোলে ঢোকে। এরই সঙ্গে রোনাল্ডো-র কাছেই আতলেতিকো মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট ম্যাচ হারে-- এই মিথের অবসান ঘটালো লেপজিগ। 

এই মুহুর্তে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের কথা ভাবছেন না লেপজিগ কোচ জুলিয়েন নাগেল্সম্যান। সেমিফাইনালে পিএসজির বিরুদ্ধে কিভাবে খেলবেন আপাতত সেই ছক কষছেন তিনি। হারলেও লেপজিগ কে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি সিমিওনে। হাফ টাইমে ড্রেসিং রুমে ফেরার সময় ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন দুই কোচ। অবশ্য সেই নিয়ে কিছু মনে রাখতে নারাজ নাগেল্সম্যান। এই মুহুর্তে তার চোখে শুধু অসম্ভব কে সম্ভব করার স্বপ্ন।