শেষ দশ বছরের মধ্যে প্রথমবার অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে লা লিগায় হারলো বার্সেলোনা। সেই সঙ্গে চলতি মরশুমে আরও একবার দরকারের সময় ব্যর্থ হলেন লিওনেল মেসি। অন্যান্য বার মরশুমের এই সময় ফর্মের তুঙ্গে থাকেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। কিন্তু এখনও অবধি তাকে নিজের পরিচিত মেজাজে দেখা যায়নি। সদ্য শেষ হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকেও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দুটি ম্যাচে গোল পাননি তিনি। এদিন কয়েকটি সুযোগ পেয়েও দলকে বাঁচাতে পারলেন না। 

এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সাকে বেশ কয়েকবার হারালেও লা লিগায় তাদের বিরুদ্ধে সুবিধা করে উঠতে পারেনি দিয়েগো সিমিওনের অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। কখনও মেসির অবিশ্বাস্য গোলে, আবার কখনও নিজেদের ভুলে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও ৩ পয়েন্ট মাঠে ফেলে আসতে হয়েছে তাদের। এদিন সেই ভুল করেননি জোয়াও ফেলিক্স-রা। প্রথমার্ধর অতিরিক্ত সময়ে মাদ্রিদের প্রতি আক্রমণ রুখতে পেনাল্টি বক্স ছেড়ে প্রায় হাফলাইনের কাছে উঠে আসেন বার্সা গোলরক্ষক টার স্টেগান। সেই সুযোগে স্টেগানকে নাটমেগ করে ৪০ গজ দূর থেকে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দেন ইয়াননিক ক্যারাসকো। তারপর বাকি ম্যাচে দাপট নিয়ে খেলেও গোল করতে পারেনি বার্সা। উপরন্তু ৬২ মিনিটে বিশ্রী চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন বার্সার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার জেরার পিকে। বেশ কিছুদিন তাকে থাকতে হবে মাঠের বাইরে। 

অপরদিকে সিঁরি আ-তে ক্যাগলিয়েরি-কে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বর উঠে এল জুভেন্তাস। জোড়া গোল করলেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। শেষ ইন্টারন্যাশনাল ব্রেক খুব একটা ভালো যায়নি তার। গোল পাননি ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু এদিন তার খেলা দেখে সন্তুষ্ট রোনাল্ডো ভক্তরা। ৩৮ মিনিটে ক্যাগলিয়েরির পেনাল্টি বক্সের বাঁ দিকের কোণায় বল পান তিনি। বিদ্যুৎগতিতে দুই ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে শট নেন তিনি। আচমকা নেওয়া তার শট গোলকিপারকে পরাস্ত করে গোলপোস্টের ডান কোন দিকে জালে জড়িয়ে যায়। তার চার মিনিট পরেই জুভেন্তাসের একটি কর্নারের সময় জটলার মধ্যে থেকে ছিটকে আসা বল চলে আসা আনমার্কড রোনাল্ডোর কাছে। বল তার খানিকটা পেছনে পড়লেও দুর্দান্ত কায়দায় ফিনিশ করে ব‍্যবধান দ্বিগুন করে যান সিআরসেভেন। এই মূহুর্তে লিগে ৫ ম্যাচ খেলে তার গোলসংখ্যা ৮। কালকের ম্যাচে নতুন রেকর্ডও গড়ে ফেললেন রোনাল্ডো। একবিংশ শতকে প্রথম জুভেন্তাস খেলোয়াড় হিসেবে লিগে নিজের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন তিনি।  দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কয়েকবার গোলের সুযোগ আসলেও সতীর্থদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। ব্যবধান আর না বাড়লেও বেশ কয়েকটি সুযোগ তিনি সতীর্থদের জন্য তৈরি করেছিলেন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নামার আগে তার এই ফর্ম স্বস্তি দেবে জুভেকে।