19

গত মাসেই নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন রেহানা ফতিমা। এর আগে মহিলা হয়ে সবরিমালায় আইয়াপ্পার মন্দিরে প্রবেশ করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন কেরলের এই নারী অধিকার কর্মী। যার জন্য তাঁকে বিএসএনএল-এর সরকারি চাকরি খোয়াতে হয়েছিল। নিতে হয়েছিল বাধ্যতামূলক অবসর।

Subscribe to get breaking news alerts

29


গত  মাসের ১৯ তারিখ তিনি নিজের নগ্ন বুকে তাঁর ২ সন্তানকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিতর্কে জড়ান। এই ভিডিও নিয়ে  ক্ষোভের সঞ্চার হয়। ফতিমার নামে বিভিন্ন থানায় অভিযোগও দায়ের হয়।

39

এই মামলাতেই কেরল হাইকোর্ট রেহানা ফতিমাকে অগ্রিম জামিন দিতে অস্বীকার করে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গেলেন রেহানা।

49

গত ১৯ জুন  রেহানা ফতিমা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেই ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে উর্ধাঙ্গে কোনও আবরণ না রেখেই বিছানায় শুয়ে আছেন তিনি। পরণে শুধু একটা লাল রঙের শর্টস। ওই অবস্থায় রেহানার নগ্ন বুকে তাঁর শিশু পুত্র ও কন্যা একটি ফিনিক্স পাখি আঁকছে।

59

ভিডিওটি আপলোড করে সঙ্গে ক্যাপশনে মালায়ালাম ভাষায় রেহানা লেখেন, 'বদ্ধ যৌনতার সমাজে মহিলারা একদম নিরাপদ বোধ করেন না। কোনও মহিলার শরীর এবং যৌনতা কী সেই সম্পর্কে আরও খোলামেলা হওয়া দরকার। যদি বাড়ি থেকেই তা শুরু করা হয় তবে এটা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে।'

69

এর জন্য কেরলের তিরুভাল্লা জেলার পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারায় অর্থাৎ 'ইলেকট্রনিক মাধ্যমে যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়বস্তু পোস্ট করা' এবং পকসো আইনের ৭৫ নম্বর ধারা অর্থাৎ 'সন্তানের প্রতি নিষ্ঠুরতা'র অধীনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
 

79

এর পরেই  হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন রেহানা ফতিমা। যা আদালত গত শুক্রবার প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে পুলিশ তাদের তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। 
 

89


শিশুদের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যই তিনি এই সব করছিলেন বলে আদালতে দাবি করেছিলেন ফতিমা। কেরল হাইকোর্ট সেই আবেদনটিও প্রত্যাখ্যান করেছে। হাইকোর্ট সাফ জানিয়ে দেয় বিবেচনার ভিত্তিতে তারা বিশ্বাস করতে প্রস্তুত নয় যে এটি পর্নোগ্রাফি নয় যেখানে ফতিমা নাবালকদের ব্যবহার করেছিলেন।

99

এদিকে ফতেমা যুক্তি দিয়েছেন যে সব  নগ্নতাকে অশ্লীলতা হিসাবে গণ্য করা যায় না। এই প্রসঙ্গে অভীক সরকার বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের  মামলার কথা উল্লেখ করেন ফতেমা। যেখানে  ওই মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট অশালীনতা ও নৈতিকতার কিছু মাপকাঠি নির্ধারণ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের সেই সময় বলেছিল যে কেবল যৌনসম্পর্কিত বিষয়কে 'উত্তেজনাপূর্ণ লালসা ভাবনা' অশ্লীল হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।