'আজ হংকং কাল আমরা', চিনের নয়া নিরাপত্তা আইনে কেন শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত তাইওয়ানের

First Published 7, Jul 2020, 6:48 PM

হংকং-এ নতুন করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন জারি করেছে চিন সরকার। আর তাতে করে হংকং-এ স্বাধীনতার দাবি তোলাটাই নিষিদ্ধ হয়েছে। আন্দোলনকারী, স্কুল-কলেজ এবং গ্রন্থাগারের উপর চাপানো হচ্ছে সেন্সরশিপ। আর ড্রাগনের এই পদক্ষেপেই তাইওয়ানের শিরদাঁড়া দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শীতল স্রোত। তাদের আশঙ্কা হংকং-এর পর বেজিং-এর নজর পড়বে গণতান্ত্রিক এবং স্ব-শাসিত দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের দিকে।

 

<p><strong>চিন-তাইওয়ান দ্বন্দ্বের ইতিহাস</strong></p>

<p>১৯৪৯ সালে মাও সেতুং-এর কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে গৃহযুদ্ধের চিনা জাতীয়তাবাদী বাহিনীর পরাজয়ের পরই চিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তাইওয়ান। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই দ্বীপে। মাও অবশ্য প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করেও একদিন এই দ্বীপ দখল করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারপর বছরের পর বছর ধরে চিনা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাইওয়ানকে। এমনকী তাইওয়ান-কে, হংকং-এর মতো 'এক দেশ, দুটি ব্যবস্থা' মডেল-ও গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল বেজিং। কিন্তু, তাইওয়ানের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দলই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।</p>

চিন-তাইওয়ান দ্বন্দ্বের ইতিহাস

১৯৪৯ সালে মাও সেতুং-এর কমিউনিস্ট বাহিনীর কাছে গৃহযুদ্ধের চিনা জাতীয়তাবাদী বাহিনীর পরাজয়ের পরই চিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল তাইওয়ান। জাতীয়তাবাদী নেতারা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই দ্বীপে। মাও অবশ্য প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করেও একদিন এই দ্বীপ দখল করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তারপর বছরের পর বছর ধরে চিনা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাইওয়ানকে। এমনকী তাইওয়ান-কে, হংকং-এর মতো 'এক দেশ, দুটি ব্যবস্থা' মডেল-ও গ্রহণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল বেজিং। কিন্তু, তাইওয়ানের দুই বৃহত্তম রাজনৈতিক দলই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল।

<p><strong>হংকং-এর জাতীয় সুরক্ষা আইন কী?</strong></p>

<p>সম্প্রতি হংকং-এ চিনের দমন নীতির বিরুদ্ধে চলা হংকং-এর স্বাধীনতার আন্দোলনকে গলা টিপে মারতে চিনের পক্ষ থেকে এই নতুন আইন জারি করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় আন্দোলনকারীদের থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ এবং গ্রন্থাগারগুলির উপর চাপানো হচ্ছে কড়া চিনা সেন্সরশিপ। স্বাধীনতার দাবিটিই তোলা যাবে না। তুললেই ড্রাগনের গ্রাসে যেতে হবে তাকে।</p>

<p> </p>

হংকং-এর জাতীয় সুরক্ষা আইন কী?

সম্প্রতি হংকং-এ চিনের দমন নীতির বিরুদ্ধে চলা হংকং-এর স্বাধীনতার আন্দোলনকে গলা টিপে মারতে চিনের পক্ষ থেকে এই নতুন আইন জারি করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় আন্দোলনকারীদের থেকে শুরু করে স্কুল কলেজ এবং গ্রন্থাগারগুলির উপর চাপানো হচ্ছে কড়া চিনা সেন্সরশিপ। স্বাধীনতার দাবিটিই তোলা যাবে না। তুললেই ড্রাগনের গ্রাসে যেতে হবে তাকে।

 

<p><strong>হংকং-কে দেখে ভয় পাচ্ছে কেন তাইওয়ান?</strong></p>

<p>১৯৯৭ সালে হস্তান্তরের পর, মূল নাগরিক বিষয়গুলি পরিচালনার স্বাধীনতা এবং ৫০ বছরের জন্য স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল বেজিং। কিন্তু, বর্তমানে যে নয়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, এবং সেই আইনকে হংকং পুলিশ যেভাবে বলবৎ করছে তাতে হংকং, তাইওয়ান, তিব্বত বা শিনজিয়াং-এর স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করা এখন অবৈধ বলে বিবেচ্য হবে বলে ভয় পাচ্ছে তাইওয়ান। তাইওয়ানিজরা ভয় পাচ্ছেন বেজিং আজ হংকং-এর দিকে হাত বাড়াচ্ছে, আগামীকাল একই দৃশ্য তাইওয়ানে দেখা যেতে পারে।</p>

<p> </p>

হংকং-কে দেখে ভয় পাচ্ছে কেন তাইওয়ান?

১৯৯৭ সালে হস্তান্তরের পর, মূল নাগরিক বিষয়গুলি পরিচালনার স্বাধীনতা এবং ৫০ বছরের জন্য স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছিল বেজিং। কিন্তু, বর্তমানে যে নয়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, এবং সেই আইনকে হংকং পুলিশ যেভাবে বলবৎ করছে তাতে হংকং, তাইওয়ান, তিব্বত বা শিনজিয়াং-এর স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করা এখন অবৈধ বলে বিবেচ্য হবে বলে ভয় পাচ্ছে তাইওয়ান। তাইওয়ানিজরা ভয় পাচ্ছেন বেজিং আজ হংকং-এর দিকে হাত বাড়াচ্ছে, আগামীকাল একই দৃশ্য তাইওয়ানে দেখা যেতে পারে।

 

<p><strong>গত কয়েক বছরে বেড়েছে ত্রিফলা চাপ</strong></p>

<p>তাইওয়ানে ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) পক্ষে সাই ইং-ওয়েন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গত কয়েক বছরে তাইওয়ানের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বেজিং। সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক - তিন দিক থেকেই তাইদের কোনঠাসা করার চেষ্টা চলছে। আসলে রাষ্ট্রপতি সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানকে 'অখণ্ড চিন'-এর অংশ নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে দেখেন। যা অবশ্যই বেজিং-এর তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনার বিরোধী। তার উপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে, সাই দ্বিতীয়বার বিপুল সমর্থনে জিতে আসায়, তাই সাধারণ জনতার যে চিনের প্রতি বিদ্বেষ যে ক্রমে বাড়ছে তারই প্রমাণ মিলেছে।</p>

<p> </p>

গত কয়েক বছরে বেড়েছে ত্রিফলা চাপ

তাইওয়ানে ডেমোক্র্যাটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) পক্ষে সাই ইং-ওয়েন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গত কয়েক বছরে তাইওয়ানের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বেজিং। সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক - তিন দিক থেকেই তাইদের কোনঠাসা করার চেষ্টা চলছে। আসলে রাষ্ট্রপতি সাই ইং-ওয়েন তাইওয়ানকে 'অখণ্ড চিন'-এর অংশ নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে দেখেন। যা অবশ্যই বেজিং-এর তাইওয়ান দখলের পরিকল্পনার বিরোধী। তার উপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে, সাই দ্বিতীয়বার বিপুল সমর্থনে জিতে আসায়, তাই সাধারণ জনতার যে চিনের প্রতি বিদ্বেষ যে ক্রমে বাড়ছে তারই প্রমাণ মিলেছে।

 

<p><strong>ক্রমে বাড়ছে স্বাধীন পরিচয়ের প্রবণতা</strong></p>

<p>তাইওয়ানের এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৭ শতাংশ মানুষ তাইওয়ানিজ-চিনা বা চিনা পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেদের 'তাইওয়ানিজ' বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। অথছ ১৯৯২ সালে, এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। বস্তুত সেই সময়ে তাইওয়ান ছিল স্বৈরতন্ত্রের হাতে করায়ত্ব। কিন্তু, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে তারা এশিয়ার অন্যতম প্রগতিশীল গণতন্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাইওয়ানিজ যুব সম্প্রদায় তাই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিবেশী দেশ চিন সম্পর্কে দারুণ অসন্তুষ্ট। আর তাই হংকং-এর অবস্তা দেখে বুক কাঁপছে তাদের।</p>

<p> </p>

ক্রমে বাড়ছে স্বাধীন পরিচয়ের প্রবণতা

তাইওয়ানের এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বর্তমানে ৬৭ শতাংশ মানুষ তাইওয়ানিজ-চিনা বা চিনা পরিচয়ের পরিবর্তে নিজেদের 'তাইওয়ানিজ' বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। অথছ ১৯৯২ সালে, এই সংখ্যাটি ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। বস্তুত সেই সময়ে তাইওয়ান ছিল স্বৈরতন্ত্রের হাতে করায়ত্ব। কিন্তু, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে তারা এশিয়ার অন্যতম প্রগতিশীল গণতন্ত্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাইওয়ানিজ যুব সম্প্রদায় তাই সাম্রাজ্যবাদী প্রতিবেশী দেশ চিন সম্পর্কে দারুণ অসন্তুষ্ট। আর তাই হংকং-এর অবস্তা দেখে বুক কাঁপছে তাদের।

 

<p><strong>হংকং ভ্রমণে সতর্কতা</strong></p>

<p>গত সপ্তাহেই বেজিং-এর নয়া আইন নিয়ে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক কাউন্সিলের মন্ত্রী চেন মিং-তুঙ্গ বলেছিলেন, বেজিং 'সারা বিশ্ব-কে প্রজা' বানিয়ে একটি সর্বশক্তিমান 'স্বর্গরাজ্য' হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ক্ষমতাসীন দল ডিপিপির সহ-সম্পরাদক জেনারেল লিন ফি-ফ্যান তাই আমজনতাকে সতর্ক করে বলেছেন, এখন তারা হংকং-এ গেলে 'ভুয়ো মামলায়' গ্রেফতার করা হতে পারে তাদের। তাইপেই-এর সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ - কেউই বেজিং নয়া আইন জারি করার পর হংকং সীমান্ত পার হতে সাহস করছেন না।</p>

<p> </p>

হংকং ভ্রমণে সতর্কতা

গত সপ্তাহেই বেজিং-এর নয়া আইন নিয়ে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক কাউন্সিলের মন্ত্রী চেন মিং-তুঙ্গ বলেছিলেন, বেজিং 'সারা বিশ্ব-কে প্রজা' বানিয়ে একটি সর্বশক্তিমান 'স্বর্গরাজ্য' হওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে। ক্ষমতাসীন দল ডিপিপির সহ-সম্পরাদক জেনারেল লিন ফি-ফ্যান তাই আমজনতাকে সতর্ক করে বলেছেন, এখন তারা হংকং-এ গেলে 'ভুয়ো মামলায়' গ্রেফতার করা হতে পারে তাদের। তাইপেই-এর সাংবাদিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ - কেউই বেজিং নয়া আইন জারি করার পর হংকং সীমান্ত পার হতে সাহস করছেন না।

 

loader