জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে অবিলম্বে ১০০ কোম্পানি বা প্রায় ১০,০০০ আধা সামরিক বাহিনীর সদস্যকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার এমনটাই জানানো হল কেন্দ্রের পক্ষ থেকে। জানা গিয়েছে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বা সিএপিএফ সদস্যদের মোতায়েনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। তারপরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত বছর ৫ অগাস্ট ৩৭০ ধারা বাতিল করেছিল কেন্দ্র। বাতিল করা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা। রাজ্যটিকে ভেঙে জম্মু ও কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময়ই এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে উপত্যকায় অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে আশঙ্কায় আগে থেকেই বেশ কয়েক কোম্পানি আধাসেনা দিয়ে মুরে ফেলা হয়েছিল পুরো উপত্যকা। তারপর থেকে পুরো একটা বছর কেন্দ্র মুখে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসার কথা বললেও, ওই অতিরিক্ত আধাসেনা মজুতই ছিল উপত্যকায়।

চলতি মাসেই ৩৭০ ধারা বাতিলের একবছর পূর্ণ হয়েছে। এরপরই, উপত্যকার অবস্থা খতিয়ে দেখে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের বার সিআরপিএফ-এর ৪০ টি কোম্পানি এবং কেন্দ্রীয় শিল্প সুরক্ষা বাহিনী বা সিআইএসএফ, সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী বা বিএসএফ এবং সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি-র ২০ টি করে কোম্পানির সদস্যদের এই সপ্তাহের মধ্যেই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সরিয়ে তাদের ঘাঁটিতে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে গত মে মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কাশ্মীর থেকে প্রায় ১০ কোম্পানি সিএপিএফ কর্মীদের প্রত্যাহার করেছিল।

তবে অবস্থা যে একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে তা মোটেই নয়। এখনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিএফ নেত্রী মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। উপত্যকায় জঙ্গিদের নিশানা হচ্ছেন একের পর এক বিজেপি নেতা। ভয়ে গেরুয়া শিবির ছেড়ে দিচ্ছেন অনেকে। জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমস্যা তো রয়েইছে। তবে এই সাম্প্রতিক সেনা প্রত্যাহারের পরও উপত্যকায় সিআরপিএফের প্রায় ৬০টি ব্যাটালিয়ন মোতায়েন থাকছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়নে প্রায় এক হাজার করে সদস্য আছেন।