১৮ পাতার সুইসাইড নোট। আর সেটা লেখা দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে। এই সুইসাইড নোট লিখেই উত্তরপ্রদেশের সম্বল-এর কিশোরী মাথায় গুলি করে আত্মঘাতি হয়েছে। তার এই আত্মবত্যার ঘটনায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। সুইসাইড নোটে নরেন্দ্র মোদীর নাম রয়েছে বলেই শুধু নয়, ষোল পাতার ওই চিঠিতে কিশোরী তুলে দিয়ে গিয়েছে বিভিন্ন 'সামাজিক পাপ'-এর বিষয়ে।

সম্বলের বাব্রালা এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করত মেয়েটি। পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৪ অগাস্ট রাতে, অর্থাৎ ৭৪তম স্বাধীনতা দিবসের ঠিক প্রাক্কালে মেয়েটি এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ তাঁর দেহ উদ্ধার করে। তার পাশেই পড়েছিল রিভলবারটি। তদন্ত শুরুর পর, গত মঙ্গলবার মেয়েটির লেখা ১৮ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটটি পাওয়া যায়।

সুইসাইড নোটে, ১৬ বছরের কিশোরীটি দূষণ, দুর্নীতি এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের মতো বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দীপাবলিতে বাজি ফাটানো, হোলিতে রাসায়নিক-ভিত্তিক রঙের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হোক, এমনটাই চেয়েছে সে। দেশের প্রবীণদের নিয়েও চিন্তিত ছিল সে। লিখে গিয়েছে, 'ছেলেমেয়েরা তাদের বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায় এমন জায়গায় আমি আর বাঁচতে চাই না'।

সামাজিক এইসব পাপ ক্রমে বাড়ছে বলে তার উদ্বেগ অবসাদ-ও ক্রমে বাড়ছিল বলে জানিয়েছে সে। এই বিষয়গুলি নিয়ে সে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আলোচনা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে সে সুইসাইড নোটে। কিন্তু, তার আগেই কেন নিজেকে শেষ করে দিল সে, সেটাই ধাঁধার। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, মেয়েটির কিছু মানসিক সমস্যা ছিল। তার জন্য চিকিত্সাও চলছিল। তবে তার মৃত্যু একটা বড় প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল। যেসব সামাজিক পাপ, সামাজিক ব্যধীর কথা সে উল্লেখ করেছে, সেগুলি যারা ঘটাচ্ছে তারাই কি আসল মানসিক রোগী,না কি এই নিয়ে উদ্বেগে-অবসাদে ভরে যাচ্ছে যাদের মন, তারা?