হায়দরাবাদ এনকাউন্টারের পর সেই ঘটনার নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা-সহ অনেকেই বলেছিলেন এই দৃষ্ঠান্তমূলক ঘটনায় ভয় ধরবে ধর্ষকদের মনে। এই ধরণের ঘটনা ঘটানোর আগে তারা ভাববে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে সে গুড়ে বালি। হায়দদরাবাদ, উন্নাও-এর পর প্রায় একই ধরণের ঘটনা ফের ঘটল ত্রিপুরায়। ২৬ বছর, ২০ বছরের পর এবার ঝঘন্য অপরাধের শিকার হলেন এক ১৭ বছরের তরুণী। তাঁর প্রেমিক ও তার বন্ধুরা মিলে ওই তরুণীকে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করে ও তারপর তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। শনিবার গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু আনার পরই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিবাজার এলাকায়। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ তরুণীর প্রেমিক হিসেবে পরিচিত অজয় রুদ্রপাল ও তার মা নির্যাতিতাকে আটকে রেখে তার পরিবারের কাছ থেকে ৫০০০০ টাকা মুক্তিপণ চেয়েছিল। কিন্তু তার পরিবার ১৭০০০ টাকার বেশি দিতে পারেনি। এরপরই শনিবার প্রচন্ড রাগে তরুণীর গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় অজয়।

তবে সে পার পায়নি। তার প্রতিবেশীরাই নির্যাতিতাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তারা অজয় ও তার মা-কেও ধরে আনেন হাসপাতালে। নির্যাতিতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাদের উপর চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। পরে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। দক্ষিণ ত্রিপুরার এসপি জল সিং মিনা জানিয়েছেন, তাদের গ্রেফতার করে শান্তিবাজার থানায় আনা হয়েছে।

ত্রিপুরা পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার শুরুটা হয়েছিল বেশ কয়েককদিন আগে। অজয়ের সঙ্গে ওই তরুণীর পরিচয় হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর দীপাবলির পরই অজয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে পালিয়েছিলেন তরুণী। কিন্তু তারপরই তার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। অভিযুক্ত অজয় তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চায় তরুণীর পরিবারের কাছে। এই সময়কালে অজয় ও তার কয়েকজন বন্ধু মিলে বারবার ধর্ষণ করেছে ওই তরুণীকে।

নির্যাতিতা তরুণীর মা জানিয়েছেন, তরুণী বাড়ি ছাড়ার পরই তাঁরা পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। অজয় প্রথম যখন টাকা চেয়েছিল, তখন পুলিশে না জানালেও, দ্বিতীয়বার টাকার জন্য চাপ দেওয়ার পর ফের একবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তখনও কোনও সহায়তা মেলেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

নির্যাতিতার মায়ের আরও জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে চন্দদ্রপুর বাস টার্মিনাসে অজয়-কে তাঁরা ১৭০০০ টাকা দেন। সেই সময়ই অজয় শাসিয়েছিল, মেয়েকে পিরে পেতে হলে পুরো ৫০০০০ টাকাই দিতে হবে। এরমধ্য়ে অজয়ের ঠিকানা জোগার করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। শনিবারই তারা সেখানে হানা দেবেন বলে ঠিক করেছিলেন। কিন্তু তার আগেই এই চরম পরিণতি হয় তাঁর মেয়ের।

তারপরেও পুলিশ প্রয়োজনীয় ভূমিকা নেয়নি বলেই অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার মা।  তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছনোর পরও তাঁর মেয়ে বেঁচেছিল। তার মুখ থেকেই তিনি জানতে পারেন, গত দুই মাস ধরে লাগাতার ধর্ষণ ও পাশবিক অত্যাচারের শিকার হয়েছে তার মেয়ে। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে জানতেন অজয় বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করত। পালানোর আগে পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু তার দুদিন পর থেকেই অজয় ও তার মা তাঁর উপর অত্য়াচার শুরু করে। কয়েকদিন পর থেকে শুরু হয় অজয় ও তার বন্ধুদের লাগাতার ধর্ষণ। এমনকী তাকে দুবেলা ঠিক করে খেতেও দেওয়া হত না।