বড় সাফল্যের মুখ দেখল অপারেশন ডেসার্ট। পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি করার অভিযোগে সেনাবাহিনী ও রাজস্থান পুলিশের যৌথ উদ্যেগে গ্রেফতার করা হয় দুই সিভিল ডিফেন্সের দুই কর্মীকে। ধৃতরা হল শ্রী গঙ্গাধর এলাকার সিভিল ডিফেন্স কর্মী বিকাশ কুমার ও বিকানিরের কর্মী চিমন লাল। অর্থের প্রলোভনে  সেনাবিহানীর একাধিক গোপন তথ্য ও নথি পাক গুপ্তচর সংস্থান আইএসআই-এর হাতে তুলে দেয়েছে বলে অভিযোগ। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার থেকে বিকাশ পেয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। আর চিমন লাল পেয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। 


গতবছরই লখনৌরএর সেনাবাহিনীর গোয়েন্দারা জানতে পারে বিকাশের নাম। তারা জানতে পারে বিকাশ পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেনা বাহিনীর প্রচুর তথ্য তুলে দিচ্ছে। তারপর রাজস্থান পুলিশকে বিকাশের ওপর নজর রাখতে বলে। বিকাশের ওপর নজরদারী চালাতে গিয়ে আসে চিমন লালের নাম। দুই দীর্ঘদিন নজর রাখার পরই সামনে আসে সেনা কর্মীই অর্থের বিনিময় সেনার গুরুত্বপূর্ণ নথি তুলে দিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থার হাতে। দুজনেই রাজস্থানের কর্মী হওয়ায়  সীমান্তবর্তী সেনা ছাউনিগুলির গোপন তথ্য ছিল হাতের মুঠোয়। শুধু তথ্য নয়। তারা একাধিক ছবিও পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। 

রাজস্থান পুলিশের সূত্র জানান হয়েছে বিকাশ কুমার আবার পড়েছিলেন হ্যানিট্র্যাপেও। সীমান্তের ওপার থেকে এক মহিলার ফোন আসত তার কাছে। আর সেই মহিলার আর্জি মেনে একাধির হোয়াটসগ্রুপের মেম্বারও হয়েছিল সে। আর ওই মহিলা ভারতীয় সেনা আধিকারিকদের নম্বরও তার কাছ থোকে জোগাড় করে সক্ষম হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে মহিলা মূলতানে কর্মরত আইএসআই এজেন্ট।যে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করত।  জেরায় বিকাশ জানিয়েছে ফেসবুকে অনোষ্কা চোপড়া নামে তার কাছে বন্ধুত্বের আর্জি আসে। তারপরই তারা খুবও বন্ধু হয়ে ওঠে।  হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও বিনিময় হত তাদের মধ্যে। চ্যাটিং ছাড়াও একাধিকবার ভিডিও কলেও কথা হয়েছে তাদের মধ্যে। যদিও মহিলা তাকে জানিয়েছিলেন তিনি ভারতের বাসিন্দা।  মুম্বইতে কর্মরত। সেই মহিলা তার 'বস'এর সঙ্গেও   আলাপ করিয়েদিয়েছিল। অমিত কুমার সিং নামের ওই ব্যক্তি একাধিকবার বিকাশের কর্মস্থানে এসেছিল। আর সেই সময়ই অনোস্কা তার ফেসবুক অ্য়াকাউন্ট আর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর নিস্ক্রিয় করে দিয়েছিল। তারপরই থেকেই অমিত কুমার সিং নামের ওই ব্যক্তি বিকাশকে অর্থের বিনিয়ম সেনা সংক্রান্ত তথ্য তুলে দেওয়ার ওপর জোর দিতে থাকে। আর পাক গুপ্তচর সংস্থার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে বেশি সময় নেয়নি বিকাশ। 

সূত্রের খবর বিকাশ চিমন লালের মাধ্যমেই তথ্য় জোগাড় করতে থাকে। প্রাথমিক তদন্তের পর তারা যেসব তথ্য পাক গুপ্তচর সংস্থার হাতে তুলে দিয়েছিল সেগুলি হলঃ

সেনা ইউনিট আর এমএফএফআর-এর ভারতের শক্তি সম্পর্কিত তথ্য। 
গোলা বারুদের ডিপোভিত্তিক ধরণ, পরিমান, পরিবহন পদ্ধতি।
রুটিন ভিত্তিক আগমণের সময়সূচি। 
গোলাবারুদের বিবরণ। 
দুটি স্থানীয় ব্রিগেডের সেনা পরিবর্তন। 
দুটি সেনা ব্রিগেডের কয়েকজন সিনিয়র আর্মি অফিসারের নাম পদ ও ব্যক্তিগত বৈশিষ্ঠ্য। 
সামরিক যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য।