ক্রমশই জাল গুটিয়ে আনছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। কানপুরের নিকটস্থ বিক্রু গ্রামে আট পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর থেকে পলাতক গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে এবং তার দলবল। বুধবার তাকে দিল্লির-উত্তরপ্রদেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় দেখা গিয়েছিল। এখনও তাকে গ্রেফতার করা না গেলেও পুলিশের গুলিতে খতম হল বিকাশ দুবের আরও দুই শাগরেদ। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত কানপুর শ্যুটআউটের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের মধ্যে পাঁচজনেরই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল।

এদিন পুলিশ জানিয়েছে দুবের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী - প্রভাত মিশ্র ও বব্বন শুক্লার মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। বব্বন শুক্লা ছিল ইটাওয়া-তে। দুবের ব্যক্তিগত বন্দুকচালক বব্বন একটি গাড়ি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ই পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলে। সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় সে।

অন্যদিকে প্রভাত মিশ্র-কে মঙ্গলবার রাতে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেখানে বিকাশ দুবের সঙ্গেই লুকিয়ে ছিল সে। পুলিশি অভিযানের সময় দুবে পালাতে পারলেও, সে পারেনি। পরে প্রভাত-কে কানপুরে নিয়ে আসে পুলিশ। এডিজি (আইন শৃঙ্খলা), প্রশান্ত কুমার বলেছেন, কানপুর যাওয়ার পথে পানকি-র কাছে পুলিশের গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে গিয়েছিল। পুলিশকর্মীরা যখন টায়ার পাল্টাচ্ছিল, সেই সময়ই প্রভাত পালানোর চেষ্টা করেছিল। সেই সময়ই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বব্বন শুক্লা ও প্রভাত মিশ্র - দুজনেই  কানপুরের পুলিশ হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। দুজনেরই মাথার দামম ধার্ষ করা হয়েছিল ৫০,০০০ টাকা। প্রভাত মিশ্র-র কাছ থেকে ৪৪ রাউন্ড গুলি-সহ দুটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই পিস্তলদুটি ২ জুলাই ভোরে পুলিশের কাছ থেকে লুট করা হয়েছিল।

তবে ৫ লক্ষ টাকা মাথার দাম থাকা বিকাশ দুবে এখনও অধরা। পুলিশ মনে করছে, দিল্লির আশপাশে কোনও এলাকায় লুকিয়ে আছে সে। তাকে ধরার জন্য গৌতম বুদ্ধ নগর, নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডা অঞ্চলে কড়া  নিরাপত্তার জাল বিছানো হয়েছে। যেভাবে চাররপাশের বৃত্তটা ক্রমে ছোট হয়ে আসছে, তাতে খুব তাড়াতাড়িই পুলিশ হন্তারক বিকাশ দুবে ধরা পড়তে চলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।