শহরের মোট ভিখারির সংখ্যা ১,১৬২ জন। আর তাদের মধ্যে দুজন স্নাতকোত্তর এবং তিনজন স্নাতক ডিগ্রিধারী। এছাড়া অন্তত ৩৯ জন শিক্ষিত। আর ১৯৩ জন কোন একসময় স্কুলে যেতেন। তবে ভিখারিদের ৮২৫ জন নিরক্ষর। অদ্ভূত তথ্য উঠে এল জয়পুর পুলিশের পক্ষ থেকে ভিখারিদের নিয়ে করা এক সমীক্ষায়।

এই সমীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল জয়পুর শহরকে ভিক্ষুকমুক্ত শহর করে তোলা। আর এর জন্য ভিখারিদের কয়েকজনকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ-পেশার কোনও চাকরি দেওয়া, বাকিদের দক্ষতা নাহলেও চলে এমন কোনও কাজ দেওয়া। আর তাই করতে গিয়েই এই পাঁচ-পাঁচজন উচ্চশিক্ষিত ভিখারির খোঁজ মিলেছে।

এই উচ্চ-শিক্ষিত ভিখারিরা জানিয়েছেন, পেটে বিদ্যে নিয়েও খিদের জ্বালাতেই ভিক্ষা করতে হয় তাঁদের। সুযোগ পেলে তাঁরা অবশ্যই কোনও মর্যাদাপূর্ণ জীবিকার মাধ্যমে উপার্জন করতে আগ্রহী। হোটেল, নির্মাণকার্য কিংবা অন্যান্য কাজ যেখানে খুব একটা দক্ষতা লাগবে না, সেইসব জায়গায় তাঁরা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন। এই পাঁচজনের মধ্যে দুজনের বয়স মাত্র ৩২ এবং ৩৫। বাকি তিনজনের মধ্যে দু'জনের বয়স ৫০ থেকে ৫৫-র মধ্যে, আর অন্যজনের বয়স হয়েছে ৬৫। এঁদের একজন জানিয়েছেন কাজের সন্ধানেই তিনি গ্রাম থেকে জয়পুরে এসেছিলেন। কিন্তু, দীর্ঘদিন না খেয়ে থাকতে থাকতে ভিক্ষে করতে বাধ্য হয়েছিলেন।   

বাকি ভিখারিদের মধ্যে কমপক্ষে ৪১৯ জন জানিয়েছেন যে তাঁরা মর্যাদাপূর্ণ জীবিকা গ্রহণ করতে চান। ভিক্ষা করাটা তাঁদের বাধ্যবাধকতা। আর ২৭ জন ভিখারি পড়াশোনা করতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছে জয়পুর পুলিশ।