দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। তার মধ্যে মেট্রো শহরগুলিতে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে ক্রমেই চিন্তার ভাজ স্পষ্ট হচ্ছে প্রশাসনের কপালে। গত সোমবার থেকে ভারতে শুরু হয়েছে আনলক ১। এবারে বেশকিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে সরকার। চলতে শুরু করেছে  গণপরবিহণও। এই অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যা যে আরও বাড়বে সেই ব্যাপারে বারবার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

দেশের বাণিজ্য রাজধানী মুম্বইতে ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বইতে নতুন করে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ১,৪৪২ জন। ঘূর্ণিঝড় নিসর্গ থেকে বাঁচলেও করোনার থাবা একেবারে চেপে ধরেছে মুম্বইকে। দেশের মোট করোনা সংক্রমণের ২০ শতাংশ বাণিজ্য রাজধানী থেকে ছড়িয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে পরিসংখ্যানে। এই অবস্থায় প্রতিদিন মুম্বইতে গড়ে প্রায় ৪ হাজার করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিদিন বাণিজ্যনগরীতে অন্তত ১০ হাজার করোনা পরীক্ষা হওয়া উচিত। 

গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় ফের রেকর্ড , ভারতে একদিনে সংক্রমণের শিকার ৯৩০৪

নিজের সিদ্ধান্ত থেকে এবার পিছু হটল 'হু', ফের শুরু হচ্ছে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

বর্ণবিদ্বেষের শিকার জর্জ ফ্লয়েড নাকি আক্রান্ত ছিলেন করোনায়, চাঞ্চল্যকর তথ্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টে

মুম্বইতে করোনা সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১.৪৬৫ জনের। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই প্রাণ গিয়েছে ৪৮ জনের। বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশন দাবি করছে করোনা সারিয়ে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৮,০৯৮ জন।

এদিকে মুম্বইয়ের মত খারাপ পরিস্থিতি না হলেও দেশের রাজধানীর করোনা সংক্রমণও যথেষ্ট আশঙ্কার। ইতিমধ্যে দিল্লিতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন ৬৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় জাতীয় রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ১,৩৫৯ জন। দিল্লির স্বাস্থ্য দফতর জানাচ্ছে, রাজধানীতে এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে মুক্তি পেয়েছেন ৯,৮৯৮ জন। ফলে সক্রিয় কেসের সংখ্যা এখন ১৪,৪৫৬ জন।

 

 

রাজধানীতে করোনা পরীক্ষার জন্য আসা ৪টে নমুনার মধ্যে গড়ে একটি নমুনা পজিটিভ বলে জানা যাচ্ছে। প্রতি ১০ লক্ষ দিল্লিবাসীর মধ্যে এখনও পর্যন্ত গড়ে ২,০১৮ জনের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে বলে পরিসংখ্যান জানাচ্ছে। এইমধ্যে দক্ষিণ ও উত্তর দিল্লিতে নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। 

দিল্লির ১১টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে করোনা প্রবণ দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি। এরপরেই রয়েছে উত্তর-পূর্ব দিল্লি। এই পরিস্থিতিতে দিল্লি এইএমসে স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। ইতিমধ্যে এই হাসপাতালে ১৯ জন চিকিৎসক ও ৩৮ জন নার্স-সহ ৪৮০ জনেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন মারণ ভাইরাসে। চিকিৎসকদের মধ্যে দু’জন ফ্যাকাল্টি সদস্যও রয়েছেন। এছাড়াও এইএমসের ৭৪ জন নিরাপত্তারক্ষী, ৭৫ জন অ্যাটেন্ড্যান্ট, ৫৪ জন সাফাই কর্মী, ১৪ জন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং কয়েকজন অপারেশন থিয়েটারের কর্মীরও কোভিড-১৯ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় যুক্ত এইএমসের তিন জন স্বাস্থ্যকর্মীর ইতিমধ্যেই মৃত্যু হয়েছে।