মঙ্গলবার হোলির দিন বড় ধাক্কা খেয়েছে কংগ্রেস। সনিয়া গান্ধীর কাছে পদত্যাগ পত্র দিয়ে দল ছেড়েছেন জ্যোতিরাধ্যিত্য সিন্ধিয়া। তাঁর পদত্যাগের পরই ছয় মন্ত্রী-সহ ২১ জন কংগ্রেস বিধায়কও পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় সিন্ধিয়ার ঘনিষ্ঠ এই বিধায়করা বেঙ্গালুরুর এক রিসর্টে এসে উঠেছিলেন। বিপর্যয় রোধ করতে কমলনাথ তাঁর বাসভবনে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন। তারপর বিদ্রোহী বিধায়কদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতে চেয়ে একসঙ্গে ১৯ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। এদিনের পর কমল নাথ সরকার মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সত্য়িই কি তাই? দেখা যাক, সংখ্যা কি বলছে।

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার মোট আসন সংখ্যা ২৩০। কিন্তু এই মুহূর্তে দুটি আসন খালি রয়েছে। তাই এখন বিধানসভার শক্তি ২২৮। এদিন ২১ জন বিধায়ক পদত্যাগ করার পর বিধানসভার শক্তি আরও কমে হয়েছে ২০৭। অর্থাৎ, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সংখ্যা হল ১০৪। এদিনের আগে কংগ্রেসের নিজেদের বিধায়ক ছিল ১১৪ জন। কিন্তু, পদত্যাগের ফলে বিধানসভায় কংগ্রেসের শক্তি কমে দাঁড়িয়েছে ৯৩-এ।

এছাড়া কংগ্রেসের পক্ষে বিএসপির দুই বিধায়ক, এসপির এক এবং চার নির্দল বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে এদিন বিএসপির দুই বিধায়ক-ও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন বলে শোনা গিয়েছে। যদি ধরে নেওয়া হয় সকলেই কমলনাথ সরকারকেই সমর্থন করবেন, তাহলেও কমল নাথ সরকারের পক্ষে থাকা বিধায়কদের মোট সংখ্যা হবে ১০০। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকছে না সরকারের।

অন্যদিকে বিজেপির মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় বিধায়ক রয়েছে ১০৭ জন। তবে তাদের আবার দুই বিধায়ক যোগাযোগ রাখছেন কংগ্রেসের সঙ্গে। গত বছর জুলাই মাসে বিধানসভায় তারা দলের বিরুদ্ধে গিয়ে কংগ্রেসের আনা একটি বিল-কে সমর্থন করেছিলেন। গত সপ্তাহে আবার তাদের কমল নাথের বাসভবনে গিয়ে আলোচনা করতে দেখা গিয়েছিল। তারা দুইজন বিজেপির সঙ্গে না থাকলে বিজেপি-র সংখ্যা দাঁড়াবে ১০৫। অর্থাৎ, তাদের হাতে তারপরেও সরকার গড়ার প্রয়োজনীয় সংখ্যা তাকচে। বিজেপি সূত্রে খবর বিজেপি-র সামনে সরকার গডড়ার সুযোগ এলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-কেই ফের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হবে।