আরও একবার 'বিগেস্ট সিঙ্গল ডে স্পাইক'। অর্থাৎ একক দিনে সর্বাধিক করোনা সংক্রমণের রেকর্ড। লকডাউন শেষে আনলকরে প্রক্রিয়া শুরু হতেই একটানা ভারতে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। আর প্রতিদিনই ২৪ ঘন্টায় ভারতে নতুন করোনা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রেকর্ড হয়ে চলেছে। রবিবার সকালে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ভারতে ২৮,৬৩৭ জন নতুন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়ায় রেকর্ড হয়েছিল। সোমবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রক জানালো গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে নতুন কোভিড মামলার সংখ্যা বেড়েছে  ২৮,৭০১ টি। অর্থাৎ রবিবারের রেকর্ড ভেঙে গেল।

এদিন সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান মন্ত্রকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় ভারতে ২৮,৭০১ টি নতুন কোভিড কেসের পাশাপাশি ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড জনিত কারণে। সব মিলিয়ে ভারতের মোট করোনা রোগীর সংখ্যাটা পৌঁছেছে ৮,৭৮,২৫৪-এ। আর করোনা মৃতের মোট সংখ্যাটা এখন ২৩,১৫৪। সক্রিয় মামলা, অর্থাৎ এখনও শরীরে ভাইরাস বহন করছেন ৩,০১,৬০৯ জন। আর ৫,৫৩,৪৭১ জন সুস্থ হয়ে গিয়েছেন কিংবা ভারত ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।

গত কয়েকদিন ধরে প্রায় প্রতিদিনই ভারতে একক দিনে সর্বাধিক  করোনভাইরাস মামলার সর্বাধিক বৃদ্ধির রেকর্ড হয়ে চলেছে। তবে সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা এখন সক্রিয় কেসের সংখ্যা-কে ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা অবশ্যই খুব ভালো খবর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভারত করোনা মহামারির প্রথম ঠেউ-এর শীর্ষে এখনও পৌঁছায়নি। তাই রোজই এই রেকর্ড হচ্ছে। তবে এখন আগের মতো অতটা লাফিয়ে লাফিয়ে এই সংখ্যাটা বাড়ছে না বলে, গবেষকরা মনে করছেন, চূড়া আর বেশি দূরে নেই। একবার চূড়ায় পৌঁছলে, তারপর ধীরে ধীরে এই সংখ্যাটা কমতে থাকবে।
 
এই মহামারিতে ভারতের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন রাজ্য এখনও মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, ও কর্ণাটক। সংক্রমণের এই ধারাবাহিক বিস্তার প্রতিরোধ করতে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নতুন করে এক সপ্তাহ থেকে এক পক্ষকালের লকডাউন জারি করা হয়েছে।

তবে, ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ-এর পক্ষ থেকে আরও একটি ভালো খবর দেওয়া হয়েছে। ভারতের করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা আরও বেড়েছে। রবিবারই দেশে মোট ২,১৯,১০৩ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। ১২ জুলাই পর্যন্ত ভারতে মোট ১,১৮,০৬,২৫৬টি করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে।