জম্মু-কাশ্মীরে ফের সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই। গোপন সূত্রে নিরাপত্তাবাহিনী খবর পায় সোপিয়ানের পিঞ্জোরা এলাকায় গা-ঢাকা দিয়েছে কয়েকজন জঙ্গি। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় অভিযান। নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাল্টা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে জঙ্গিরা। শেষ পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, এদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে ৪ জন সন্ত্রাসবাদীর মৃত্যু হয়েছে। 

 

 

এর আগে গত রবিবার সোপিয়ানের জৈইনপোরা এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এনকাউন্টারে ৫ জঙ্গির খতম হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেনাসূত্রে নিহত সন্ত্ররাসবাদীদের পরিচয়ও জানান হয়। সেই দলে ছিল হিজবুল মুজাহিদ্দিনের কমান্ডার ফারুক আসাদ নাল্লিও। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল আগ্নয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ছবিতে দেখুন: করোনার বাড়বাড়ন্তের মধ্যেই জুলাইতে শুরু অমরনাথ যাত্রা, শামিল হতে পারবেন না ৫৫ বছরের বেশি বয়সিরা

রবিবারের পর ফের সোমবার ভোর থেকে সোপিয়ানে শুরু হয় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ। নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে দক্ষিণ কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলার পিনজোরা অঞ্চল ঘিরে ফেলে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি , রাষ্ট্রীয় রাইফেলস এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ-এর  জওয়ানরা এই দলে ছিলেন। সূত্রের খবর বেগতিক বুঝে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে প্রথমে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীরা। নিরাপত্তা বাহিনী পালটা গুলি চালালে দু'তরফে সংঘর্ষ বেধে যায়।এদিনের গুলির লড়াইতে সেনার ৩ জওয়ানের সামান্য আঘাতের খবর পাওয়া গিয়েছে। 

আরও পড়ুন: দেশজুড়ে ধর্মস্থান খুলতেই করোনা ভীতি ভুলে উপচে পড়ল ভিড়, স্রোতের বিপরীতে হাটলো ওড়িশা

সোপিয়ান জেলার গত কয়েকদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় সেনা। "সিআরপিএফের সঙ্গে যৌথ ভাবে আজ ভোরারে অপারেশনে ৪ জঙ্গিকে খতম করা হয়েছে। জঙ্গিরা হিজবুল মুজাহিদিনের সদস্য। এই নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জঙ্গিকে নিকেশ করা হল। এদের মধ্যে ২ জন উচ্চ পর্যায়ের জঙ্গি নেতা।" জানিয়েছেন জম্মু-কাশ্মীরের ডিজিপি দিলবাগ সিং। 

এর আগে, গত ৩ জুন কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি দমনে বড়সড় সাফল্য পায ভারত৷ সেদিনের অভিযানে পুলওয়ামা জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ডকে খতম করে সেনা৷ জইশ–ই–মহম্মদের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি সদস্য হায়দার ওরফে ইদ্রিশ ওরফে ফৌজিভাইকে  খতম করা হয়। জইশ–ই–মহম্মদের এই শীর্ষনেতাই ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার গোটা ছকটি কষেছিল৷ আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু হয়েছিল ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ানের৷

এদিকে চলতি বছর এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জন জঙ্গিকে ভারতীয় সেনা খতম করেছে। এদের মধ্যে ২১ জন বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের কমান্ডার পদে ছিল।