সকালের ব্রেকফাস্ট বা প্রাতরাশে খাচ্ছেন ৪০টি রুটি। তারপর বেলা বাড়লে মধ্যাহ্নভোজনে প্রতিদিনই খাচ্ছেন প্রায় ৮ থেকে ১০ থালা ভাত। বিহারের বক্সারের এক কায়রেন্টাইন সেন্টারে রয়েছেন ২৩ বছরের যুবক অনুপ ওঝা। সম্প্রতি রাজস্থান থেকে ফিরেছেন তিনি। আর তাঁর এই বিপুল খিদে মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন মাঞ্ঝাওরি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্তারা।

যেদিন থেকে অনুপ ওঝা ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে এসে ঢুকেছেন, সেদিন থেকে তাঁর অস্বাভাবিক ক্ষুধার জন্য কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রে খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য খাদ্যের সরবরাহের ঘাটতি হচ্ছিল। সেখানকার কর্মীরা প্রশাসনিক কর্তাদের সেই কথা জানালে, তাঁরা সেই কথা প্রথমে মানতে চাননি। কারণ, ওই কেন্দ্রে যে কয়জন পরিযায়ী শ্রমিক ও ভিনরাজ্য থেকে আসা অন্যান্য লোকজন রয়েছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য সরবরাহ করা হয়েছিল।

তখন তাঁদের অনুপের অস্বাভাবিক খিদে ও খাওয়ার ক্ষমতার কথা জানানো হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সেই কথা মানতেই চাননি। বরাদ্দ খাদ্য নিয়ে কোনও বাআইনি কারবার হচ্ছে কিনা, তা দেখতে তাঁরা শুক্রবার মধ্যাহ্নভোজনের সময় ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে যান। গিয়ে তো তাদের চোখ ছানাবড়া। দেখেন, অনুপ একাই কমপক্ষে ১০ জনের খাওয়ার খাচ্ছে।

সেখাকার ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) এ কে সিং জানিয়েছেন, শুক্রবার মাঞ্ঝাওরি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পরিযায়ীদের জন্য বিহারের জনপ্রিয় খাবার লিট্টি বানানো হয়েছিল। অনুপ ওঝা একাই ৮৫টি লিট্টি খেয়ে নেন। কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রান্নার দায়িত্ব যাঁর, তিনি ওই এক ব্যক্তির জন্যই রুটি করতে করতে হাঁপিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁর একটাই আশা, অনুপের কোয়ারান্টাইনে থাকার সময় প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। প্রশাসনিক কর্তারা অবশ্য কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, আর যে কয়েকটা দিন তিনি ওখানে থাকবেন, তাঁকে তাঁর পর্যাপ্ত খাবার থেকে যেন বঞ্চিত না করা হয়। তিনি যা কেতে চান, তাঁকে তাই বানিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিহারে শনিবার পর্যন্ত ৩৫০৯ জল করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। এরমধ্য়ে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন ১২০৯ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।