৩৬ বছরের শিবানী বিয়ে করেছেন ১৬ বছর আগে। বিয়ের পর থেকেই তাঁকে গ্রাস করেছে বিষণ্ণতা। কারণ, তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা তাঁকে একরকম বাড়ির ভেতর বন্ধ করেই রেখে দিয়েছে।  তাঁর স্বামী তাঁকে কথায় কথায় খোঁটা দিয়েছে চেহার নিয়ে। কারণ সে একটু মোটা আর কথায়-কথায় অসুস্থ হয়ে পড়ত। যার খরচ চালাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হত শিবানীর স্বামীকে।

২০১৭-র অগস্ট মাসে শিবানী আত্মহত্য়ার চেষ্টা করেন। শিবানীর শাশুড়ি তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে। তারপর শিবানীর ভাইকে খবর দেন। বাপের বাড়ির লোকজন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে ভরতি করা হয় তাঁকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ ডাকে। শিবানীর বাপের বাড়ি থেকে একরকম মুচলেকা দেওয়া হয় যে, ওঁর আত্মহত্য়ার চেষ্টার জন্য় কোনওভাবেই শিবানীর স্বামী দায়ী নন। তাই কোনও মামলা রুজু করা হয় না। শুধু শিবানীর ক্ষেত্রেই নয়। এই ধরনের বহু ঘটনাতেই তাই পুলিশি তদন্ত হয় না। ফলে জানা যায় না শিবানীরা কেন আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন।

১৩৪৫১৬ জন ভারতীয় আত্মহত্য়ার চেষ্টা করেছিলেন ২০১৮ সালে। যাঁদের মধ্য়ে ২০৭৫ জন ব্য়র্থ হয়েছিলেন। ন্য়াশানাল ক্রাইম রেকর্ড ব্য়ুরোর পরিসংখ্য়ান অন্তত তেমন কথাই বলছে। ২০১৮ সালে প্রতিদিন ৬৩ জন গৃহবধূ নিজেকে শেষ করে দিয়েছেন। যা সামগ্রিকভাবে সবধরনের আত্মহত্য়ার মধ্য়ে ১৭.১ শতাংশ। দেখা গিয়েছে, ২০০১ সাল থেকে শুরু করে এখনও অবধি,   ২০হাজারেরও বেশি গৃহবধূ আত্মঘাতী হয়েছেন প্রতিবছর।

কেন আত্মঘাতী হন গৃহবধূরা?

কারণ অনেক। বলা হচ্ছে, বেকারি, কৃষিতে সঙ্কট ও অসংগঠিক ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার  শ্লথ হয়ে পড়াই অবসাদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে দরিদ্র পরিবারে। যার পরোক্ষ ফল ভুগতে হচ্ছে পরিবারের মেয়েদের। গার্হস্থ্য় হিংসার পাশাপাশি এই ধরনের বিষয়গুলো সংসারে অশান্তি ডেকে আনছে, ফাটল ধরছে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে। যার পরিণতিতে এদেশে প্রতিদিন ৬৩জন গৃহবধূ আত্মঘাতী হচ্ছেন।