উদ্দেশ্য ছিল ২৬/১১ মুম্বই হামলার মতো আরও এক বড়সড় জঙ্গি হামলা চালানো। তার জন্য জঙ্গিদের অস্ত্র জোগান দিতে গত ৮ দিনে ১০ বার উচ্চ ভার বহনক্ষম ড্রোনের মাধ্যমে পঞ্জাবে একে-৪৭সহ প্রায় ৮০ কেজি অস্ত্র এসেছে পাকিস্তান থেকে। পঞ্জাব পুলিশ ত্রান তরণ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের এক অভিযান চালায়, তাতেই এই অস্ত্র আসার বিষয়টি ধরা পড়েছে। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, জঙ্গিদের এই অস্ত্র পাঠানোর বিষয়ে হাত রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর।

গত ২২ সেপ্টেম্বর চার খালিস্তানি জঙ্গি ধরা পড়েছিল ত্রান তরনে। গ্রেফতারির মুখে তারা ড্রোনটিকে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তাদের জেরা করেই পাকিস্তান থেকে অস্ত্র আসার তথ্য পায় পঞ্জাব পুলিশ। তারপরই অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হয়। কিন্তু কীভাবে এই অস্ত্র-সহ ড্রোন কীভাবে ভারতের রেডারের নজরদারি এড়িয়ে এতদিন ধরে ভারতে অস্ত্র বয়ে আনছিল সেই তদন্ত শুরু হয়েছে। ড্রোনটিকে ফরেন্সিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এই ড্রোনগুলির একেকটির ওজন ১০ কেজি। একেকবারে ৪ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করার ক্ষমতা রয়েছে। গত ৯ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ড্রোনে করে অস্ত্র পাঠানো হয়েছে ভারতে। তবে শেষ ড্রোনটি ত্রান তরনের এক গ্রামে মুখ থুবরে পড়ে। সেটিকেই জঙ্গিরা পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়ে।

এই খালিস্তানি জঙ্গিদের পিছনে শুধু পাকিস্তান নয়, সমর্থন রয়েছে জার্মানির একটি গোষ্ঠীরও। পঞ্জাব ও তার আশপাশের রাজ্যগুলিতে পর পর বেশ কয়েকটি বড় ধরণের জঙ্গি হামলা চালানোর পরিল্পনা ছিল তাদের।

আটক জহ্গিদের কাছ থেকে ১৬টি ম্যাগাজিন ও ৪৭২ রাউন্ড গুলি-সহ মোট পাঁচটি একে-৪৭ রাইফেল,  ৮টি ম্যাগাজিন ও ৭২ রাউন্ড গুলি-সহ  চারটি চিনা .৩০ বোরের পিস্তল,    ৯টিু হ্যান্ড গ্রেনেড, পাঁচটি স্যাটেলাইট ফোন, দুটি মোবাইল ফোন, দুটি ওয়্যারলেস সেট, এবং ১০ লক্ষ টাকার জাল নোট মিলেছে।