এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান করে চিনা সেনা। পূর্ব লাদাখ সেক্টরে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ৫০, ০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবল ঠান্ডা আর খারাপ আবাহদার কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল চিনা সেনা। আর সেই কারণেই  একটা সময় প্রায় ৯০ শতাংশ চিনা সেনার পরিবর্তন করা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। শীর্ষ স্থানে এক অধিকার্তা জানিয়েছেন, একটা সময় চিনা সেনাবাহিনী তাদের প্রায় সমস্ত সেনাকেই সরিয়ে দিয়ে নতুন সেনা মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছিল।কারণ পূর্ব লাদাখ সেক্টরে প্রায় ৯০ শতাংশ সেনাই ছিল বদল করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। 

সূত্রের খবর পূর্ব লাদাখ সেক্টরে অবস্থানকারী পিপিলস লিবারেশন আর্মির সদস্যদের সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় তিব্বত ও অন্যান্য জায়গা  থেকে সেনা নিয়ে আসা হয়েছিল। রিজার্ভ ফোর্স থেকেও সেনা নিয়ে আসার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দেননি নাম প্রকাসে অনিচ্ছুক সরকারি অধিকার্তা। সূত্রের খবর চিনা বাহিনী গত বছর শীতকালে লাদাখের প্রবল ঠান্ডায় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছিল। খারাপ আবহাওয়ার কারণে প্রচুর চিনা সেনা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলেও সূত্রের খবর। 

ভারতে প্রতিবছর ই সেনা বাহিনী ঘুরিয়ে ফিরেয়ে মোতায়েন করা হয় পূর্ব লাদখ সেক্টরে। লাদাখ অঞ্চলে দুই বছরের স্থানে মেয়াদের কারণে সেনা পরিবর্তন করা হলেও ৪৫-৫০ শতাংশ সেনা অপরিবর্তিত থাকে। তবে চলতি বছর অতি উচ্চ এলাকায় অভিযানগুলিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী চিনাদের তুলনায় অনেকটাই বেশি দক্ষতা দেখিয়েছে বলেও সেনা সূত্রের খবর। তবে চলতি বছর অবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পরেই বিপুল সংখ্যক  চিনা সেনা পুনরায় ভারতীয় সীমান্তে ফিরে এসেছে। সূত্রের খবর চিনা বাহিনীর একটা বড় অংশ আবার  পূর্ব লাদাখের নিকট
 অনুশীলনের জন্য তাদের ঐতিহ্যবাহি প্রশিক্ষণ অঞ্চলে ফিরে গেছে। 

সূত্রের খবপর চিনা সেনারা বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে অবস্থান করছে। চিনা সেনারা এমন জায়গায় রয়েছে যেখান থেকে তারা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় ফ্রন্টে পৌঁছে যেতে পারে। পূর্ব লাদাখ সেক্টরে ভারতীয় সেনাও কড়া নজর রাখতে চিনাদের ওপর। তবে এখনই ভারত আগ্রাসীভূমিকা গ্রহণ করবে না বলেও সূত্রের খবর। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ভারতীয় সেনা কর্তারাও গোটা এলাকায় পর্যবেক্ষণ করেছেন বলেও সূত্রের খবর। 

গত বছর মে মাস থেকেই চিনা সেনা পূর্ব লাদাখ সেক্টরে অগ্রাসী ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। জুন মাসে দুই দেশের সেনামধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়েছিল। সেই সময় ভারতের প্রায় ২০ জন সেনা জওয়ান নিহত হয়েছিল। তবে কতজন চিনা সেনার মৃত্য়ু হয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট করে জানায়নি চিন প্রশাসন। গতবছর প্রায় পুরো সময় ধরেই লাদাখ সীমান্তে উত্তেজনা অব্যাহত ছিল। এবারও ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে চিনা সেনা।