জঙ্গল মানেই যে সাপের দেখা মিলবে এটাই খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু পশ্চিমঘাট পর্বত সংলগ্ন একটি জঙ্গলে দেখা মিলল সম্পূর্ণ নতুন এক প্রজাতির সাপের, যার পুর্বসুরীদের দেখা মিলেছিল প্রায় আড়াই কোটি বছর আগে। এতদিন এই প্রজাতির সাপ লুপ্ত বলেই মনে করা হত। তাই হঠাত এই বিরল প্রজাতির সরীসৃপের দেখা মেলায় সর্প বিশেষজ্ঞরা বিস্মিত।
 
সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স-এর একদল গবেষক পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সাপদের শ্রেণীবদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে সেখানকার দক্ষিণ প্রান্তের এক জঙ্গলে গিয়েছিলেন। সেখানেই এই বিরল প্রজাতির সাপ তাঁদের চোখে আসে। এরপর তারা সাপটির বিষদ বিবরণ পাঠান চেন্নাই সর্প উদ্যান ও বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটির কাছে। সকলের গবেষণাতেই উঠে আসে সাপটির অনন্যতা। তাঁদের উদ্যোগে সাপটি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই সাপ অত্যন্ত বিষাক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম  প্রহেতুলা অ্যান্টিকা। মূলত ২ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগে এই প্রজাতির সাপের পুর্বসুরীদের দেখা মিলত বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এরা মূলত 'ভাইন' গোত্রের সাপ। গ্রাম-বাংলায় যে লাউডগা সাপ দেখতে পাওয়া যায়, অনেকটা তাদের মতোই সরু দেহ, এবং গাছে লতার মতো জড়িয়ে থাকে।  

দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকাতে এই ধরণের সাপের বাড়বাড়ন্ত। তবে ভারত সহ গোটা এশিয়াতেই ভাইন প্রজাতির সাপের দেখা মেলে। এ যাবত ভারতে মোট চারটি ভাইন প্রজাতির সাপের সন্ধান মিলেছিল, সম্প্রতি ওড়িশায় এক নতুন প্রজাতি আবিষ্কার হওয়ার পর সেই তালিকা বেড়েছে। 

তবে, সেইসব প্রজাতির সঙ্গে পশ্চিমঘাটে পাওয়া সাপটিকে এক করে ফেললে চলবে না। কারণ এই সাপটির যোগসূত্র বহু প্রাচীন। মাঝে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি বছর তাদের কোনও দেখা মেলেনি। তাই সর্প গবেষণার ক্ষেত্রে এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও একটি বিষয় সর্প বিশেষজ্ঞদের অবাক করেছে। সাধারণত, পৃথিবীতে টিকে থাকার লড়াইয়ে জেতার জন্য আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাণীদের দৈহিক ও ব্যবহারিক বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। কিন্তু এই সাপটির ক্ষেত্রে বলতে গেলে তেমন কোনও পরিবর্তনই হয়নি। ফলে এই নতুন প্রজাতি আরও বেশি কৌতূহলের উদ্রেক করেছে।