ঘুরছে সপ্তদশ লোকসভার রথের চাকা। এই বার লোকসভা অধিবেশনের শুরুতেই স্বাগত ভাষণে রাষ্ট্রপতির বয়ান নিয়ে বিরোধিতার আবহ তৈরি হয়েছিল নানা মহলেই। এবার সেই ব্য়াপারে কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে বিবৃতি দিলেন অধীর চৌধুরী। 

কী বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি

সংসদ ভবনের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বলেন. ২০১৪ সালের পর থেকেই দেশে যে উন্নয়নের ঝড় উঠেছে তাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে জনাদেশ দিয়েছে জনতা জনার্দন। তিনি আরও বলেন ২০২৪ সালের মধ্যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৫০ শতাংশ আসন বাড়বে। 

রাষ্ট্ররপতির এই বয়ান নিয়ে নানা মহলেই নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে কংগ্রেসের দলনেতা তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী যা করলেন তাকে সুনামির সঙ্গে তুলনা করা যায়। 
 
অধীর উবাচ

এদিন অধীর চৌধুরী সাংসদ ভবন থেকেই প্রশ্ন তোলেন,  উন্নয়ন কি শুরু হল ২০১৪ সালে? তাঁর বয়ান, 'আমি মনে করি রাষ্ট্রপতির মন্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, লোকসভার ভাবধাররা  পরিপন্থী।'এরপরে অধীর কাগজে কলমে স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষের উন্নয়নের নমুনা দেখান। তাঁর মতে, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থেকে আজ অবধি দেখলেই বোঝা যায় উন্নয়নের গতি। তিনি তথ্য তুলে এনে দেখান, ২০১৭-২০১২ ভারতের ৭.৫ শতাংশ জিডিপি গ্রোথ হয়েছিল।১৯০১ থেকে ১৯৫১ অর্থাৎ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শুরু হওয়ার আগে ভারতের বিকাশ হার ছিল -১ শতাংশ। সেখান থেকে এই বিকাশ হারকে আমরা এই জায়গায় নিয়ে গিয়েছি। দশ বছর ধরে আমরা এই জিডিপির এই গড়  ধরে রেখেছি।

অধীরের বক্তব্যে উঠে এসেছে গ্লোবাল রিসেশান বা দুনিয়াব্যাপী আর্থিক মন্দার কথাও। অধীর বলেন, পৃথিবীব্যাপী আর্থিক সুনামির মধ্যেও আমাদের জিডিপি কমেনি বরং বেড়েছে।  বক্তব্যের মধ্যে বারবার প্রধানমন্ত্রীকে সম্বোধন করে তাঁর মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। 

প্ৰসঙ্গত এই প্রথম নয়, প্রথম থেকেই সংসদভবনে তাঁর উপস্থিতির প্রমাণ দিয়ে চলেছেন অধীর চৌধুরী। স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে কবিতাপাঠ করে চমকে দিয়েছিলেন অনেককে। এদিন অধীর ফের একবার বুঝিয়ে দিলেন তিনি লোকসভার দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। একা কুম্ভ হয়ে তিনি বাংলায় কংগ্রেসের বুদির ঘর রক্ষা করেছিলেন। জেদ আর নাছোড় লক্ষ্যে অটল অধীর ছেড়ে কথা বলবেন না।