লাদাখের পানগং হ্রদ এবং গালওয়ান নদী উপত্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গত দেড় মাসের বেশি সময় ধরে উত্তেজনা জারি রয়েছে। এরমধ্যে গালওয়ান উপত্যকায় ৪৫ বছর পর রক্ত ঝড়েছে ভারতীয় সেনার। এই দুই এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হচ্ছে যখন, তখনই ভারতীয়দের জন্য সমস্যা তৈরির নতুন ক্ষেত্র বেছে নিল চিন। বুধবার জানা গেল, এখন দৌলত বেগ ওল্ডি অঞ্চলের টহল পয়েন্ট দশ থেকে ১৩-র মধ্যে ভারতীয় টহলদার বাহিনীকে বাধা দিতে শুরু করেছে চিনা সেনা।

ভারতীয় সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, দৌলত বেগ ওল্ডি বা ডিবিও সেক্টরে চিনারা নতুন করে ভারতীয় সেনার টহলদারিতে বাধা দিচ্ছে। এই টহলদারি পয়েন্ট ১০ থেকে ১৩ পর্যন্ত এলাকা গালওয়ান নদী উপত্যকা সংলগ্ন এবং ডিবিও সেক্টরে ভারতীয় ঘাঁটির খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এছাড়া টহলদারি পয়েন্ট ১৫ এবং ১৭-এর কাছাকাছি ​এলাকা দিয়ে তাদের রাস্তা ব্যবহার করে ​প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার বেশ কাছে ভারী যানবাহন এবং কামান নিয়ে আসছে চিন। প্রসঙ্গত আকসাই চিন মালভূমিতে এই ডিবিও খাত-ই একমাত্র ভারতীয় উপস্থিতি। বাকি সবটাই নিয়ন্ত্রণ করে চিন।

সেনা সূত্রে আরও বলা হয়েছে, প্যাংগং লেক, গালওয়ান উপত্যকার পর দৌলত বেগ ওল্ডি-তে এই চিনা আগ্রাসন শুরু হওয়ার অবশেষে চিনাদের উদ্দেশ্য জলের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্রটির দাবি চিনারা কারাকোরাম খাতের নিকটবর্তী এলাকাগুলি দখল করতে চাইছে। এতে করে ভারতের ঠিক উপরে শেনজেন অঞ্চল দিয়ে পাকিস্তান হয়ে ইউরোপের দিকে তাদের যে ইকনমিক করিডোর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, সেই রাস্তা কিছুটা গভীরতা পাবে। সেইক্ষেত্রে সেই রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত করা যাবে। আর তার জন্যই একের পর এক ভারতীয় এলাকগুলি দখল করতে চাইছে তারা।