নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য়ের জেরে ছুটি পাঠানো হল রাজ্যপালকে। নতুন রাজ্যপালের দায়িত্বে এলেন নাগাল্যান্ডের রাজ্য়পাল আর এন রবি। যদিও রাজ্য়পালকে জোর করে ছুটিতে পাঠানোর খবরকে গুজব বলে জানিয়েছে রাজভবন। রাজ্য়পালের অফিস জানিয়েছে, জমানো ছুটি নিয়েই বড়দিনের সময় ছুটি কাটাতে বেরিয়েছেন রাজ্য়পাল। নতুন বছরের ছুটি কাটিয়ে জানুয়ারিতেই ফের পদে যোগ দেবেন তিনি।

 

Two things should never be lost sight of in the present atmosphere of controversy.
1. The country was once divided in the name of religion.
2. A democracy is NECESSARILY DIVISIVE. If you don’t want it go to North Korea.

— Tathagata Roy (@tathagata2) December 13, 2019  

 

আগেও বহুবার তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য়ের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে সরানো যায়নি মেঘালয়ের রাজ্য়পাল তথাগত রায়কে। কিন্তু ১৩ ডিসেম্বরের টুইটের পর আর বিতর্ক বাড়াতে চায়নি কোনওপক্ষই। রাজভবনের তরফে বলা হয়েছে, তথাগত রায় ছুটিতে  থাকায় সেই মেঘালয়ের রাজ্য়পালের দায়িত্ব পালন করবেন আর এন রবি। নাগাল্যান্ডের দায়িত্বের পাশাপাশি মেঘালয়ের রাজ্য়পালের দায়িত্বও পালন করবেন রাজ্য়পাল।

রাজভবন যাই বলুক না  কেন, মেঘালয়ের রাজনৈতিক মহল মনে করছে টুইটের জেরেই সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে তথাগত রায়কে। নইলে নাগরিকত্ব নিয়ে রাজ্য়ের পরিস্থিতি আরও বিগড়াতে পারত। গত ১৩ ডিসেম্বর রাজ্য়পালের টুইট ঘিরেই যাবতীয় বিতর্কের  সূত্রপাত। সেই টুইটে তথাগত রায় বলেন,বর্তমান বিতর্কের পরিবিশে দুটি জিনিসকে নজরের আড়ালে নিয়ে গেলে চলবে না।  একবার ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছে। গণতন্ত্রেও বিভাজনের  প্রয়োজন রয়েছে। যারা এটা মানেন না  তাঁরা উত্তর কোরিযায় গিয়ে থাকুন। 

সূত্রের খবর, তথাগত রায়ের এই টুইটেই মেঘালয়ের নাগরিকত্ব আইন বিরোধী বিক্ষোভে ঘি পড়ে। এরপর আর নতুন করে বিতর্ক বাড়াতে চায়নি কেউ। তড়িঘড়ি  ছুটিতে পাঠানো হয় রাজ্যপালকে। কারণ উত্তরপূর্বে অসম ছাড়াও মেঘালয়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে আগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। যার জেরে প্রকাশ্য় জনসভায় নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তনের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। 

কদিন আগেই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় উত্তাল চেহারা নেয় মেঘালয়। পরিস্থিতি খারাপ থেকে আরও খারাপের  দিকে যায়। এক অনুষ্ঠানে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা যোগ  দিতে গেলেবিক্ষোভকারীরা তাঁকে হেনস্থা করে। চপার থেকে মুখ্যমন্ত্রী নামতেই তাঁর ওপর চড়াও হয় বিক্ষোভকারীরা। উইলিয়াম নগরে এই ঘটনার পরই রাজ্যজুড়ে কারফিউ জারি করা হয়। সন্ধের দিকে কারফিউ কিছুক্ষণের জন্য তুলে নেওয়া হলেও এখনও মেঘালয়ে জারি রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়, তার জন্য রাজ্য়ে ইন্টারনেট ও এসএমএস পরিষেবা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

Thank you Hon’ble Home Minister @AmitShah ji for hearing us and assuring to resolve our concerns. pic.twitter.com/imQErbKc1X

— Conrad Sangma (@SangmaConrad) December 14, 2019 

 

সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের নির্বাচনে প্রচারে নিজেই ক্যাব নিয়ে মুখ খোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, নাগর নিয়ে ইতিমধ্য়েই তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ছাড়াও বেশ কয়েকজন। তাঁরা বিলে কিছু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন। আমি তাঁদের ক্রিসমাসের পর আসতে বলেছি। প্রয়োজনে ক্যাব আইনে গঠনমূলক পরিবর্তন আনা যেতেই পারে। স্বাভাবিকভাবেই অমিত শাহের এই টুইটের পর বুকে বল পেয়েছেন কনরাড। অমিত শাহের সেই মন্তব্য়ের.ভিডিও নিজের টুইটার হ্য়ান্ডেলে আপলোড করেছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।