তাজ মে কুছ কালা হ্য়ায়। করোনার সৌজন্য়ে আপাতত তাজমহলকে নিয়ে এমন রসিকতাই চালু হয়েছে।

বিদেশ থেকে মধুচন্দ্রিমা করে এসেছিল স্বামী-স্ত্রী মিলে। দুজনেই করোনায় আক্রান্ত বলে নিশ্চিত জানা গিয়েছে। তারপর স্বামীকে কোয়ারেনটাইনে পাঠানো হলেও স্ত্রীকে  কিন্তু আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাজমহলের শহর আগ্রায় কোথাও লুকিয়ে রয়েছেন সদ্য়বিবাহিত সেই যুবতী। আর তাই আগ্রা তথা তাজমহলকে ঘিরে শুরু হয়েছে আতঙ্ক।

সেখানে এখন প্রায় সমস্ত মানুষই মুখে মাস্ক পরে ঘুরছেন। যদিও চিকিৎসকরা বলছেন, যাঁরা করোনায় আক্রান্ত হননি, তাঁদের কিন্তু মাস্ক পরার কোনও প্রয়োজন নেই। তাতে করে হিতে বিপরীত হতে পারে। কিন্তু আতঙ্ক এমনই যে,কে শোনে কার কথা। জানা গিয়েছে, করোনায় আক্রান্ত  লুকিয়ে থাকা সেই  যুবতী খুব সম্প্রতি একজন টেকিকে বিয়ে করেছিলেন। দুজনে মিলে বিদেশে গিয়েছিলেন মধুচন্দ্রিমা করতে। ফিরে আসার পর রোগ ধরা পড়ে দুজনের। এই পরিস্থিতিতে যখন তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে বেঙ্গুলুরুর একটি কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়, তখন সেখান থেকে পালিয়ে আসেন ওই যুবতী। এ-ও জানা যায়, ওই যুবতী পালিয়ে চলে আসেন আগ্রায়, তাঁর নিজের বাড়িতে। কিন্তু সেখানে গিয়েও তাঁর খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ওই ওই যুবতী ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

আগেকার দিনের সাদাকালো ছবিতে যেমন প্রায়শই দেখা যেত, মানসিক হাসপাতাল থেকে রোগী পালিয়েছে  আর তার খোঁজে চলছে জোর তল্লাশি, এ-ও যেন অনেকটা সেরকমই। বরং তার চেয়ে আরও ভয়ানক। করোনার রোগী যদি আর পাঁচজনের মধ্য়ে পরিচয় গোপন করে মিশে থাকে, তাহলে সেভাবে কাউর বোঝবার উপায়  নেই। কারণ, হাঁচিকাশির মতো উপসর্গ তো অনেকেরই রয়েছে। এমতাবস্থায়, তাঁর থেকে যদি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে একবার, তাহলে তার পরিণতি ভেবেই শিউরে উঠছে সবাই।

আপাতত ওই যুবতীর বাবা ও তাঁদের ১৪ জন প্রতিবেশীকে রীতিমতো নজরে রাখা হয়েছে। তাঁদের পরিচ্ছন্ন করে রাখার কাজ চলছে সকাল-বিকেল। এদিকে আলিগড়ের এক প্রশাসনিক আধিকারিক জানিয়েছেন, জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজে একজন করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। ওই ব্য়ক্তির নমুনাটিও এসেছিল আগ্রা থেকে।