২০০১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের ভারতীয় বায়ুসেনার ঘাঁটিতে বড়সড় হামলা হয়েছিল। এরপরেই ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স তাদের বিভাগে বিশেষ একটা ইউনিটের অভাব অনুভব করেছিল। সেখান থেকেই গরুড় ইউনিট তৈরির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। বর্তমানে গরুড় কমান্ডো ইউনিটে ১,৫০০ জন সদস্য রয়েছেন। যাঁদের মূল কাজ চরম সংকটপূর্ণ সময়ে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সকে সাহায্য করা। বর্তমানে রাষ্ট্রসংঘের পিস কিপিং অপারেশনের অংশ হিসেবে গরুড় কমান্ডোর বেশ কিছু সদস্য কঙ্গোতে রয়েছেন। ২০০২ সালে এয়ার ফোর্সের ২০০০ জন কমান্ডারকে নিয়ে ট্রেনিং শুরু হয়েছিল।

গরুড়  কমান্ডো ইউনিট প্রশিক্ষণ

শুধু সংকটময় পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সকে সাহায্য করাই গরুড় কমান্ডো ইউনিটের কাজ নয়। প্যারা কমান্ডো বাহিনী এবং নৌবিভাগের এমএআরসিওএস বাহিনীর  মতো প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে।  বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় যেমন এদের পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়, তেমনি প্রয়োজন পড়লে শত্রুর অঞ্চলে গিয়ে লড়াই করতেও পারে গরুড় কমান্ডো ইউনিট।

গরুড় বাহিনীর দায়িত্ব

সেনাবাহিনীর অন্যান্য বিভাগের মতো এদেরও যুদ্ধের সময় এবং বাকি সময় ডিউটির ধরন আলাদা হয়।

যুদ্ধকালীন সময়ে গরুড় কমান্ডোর দায়িত্ব

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণ অনুসন্ধান করা এবং দুর্গতদের সাহায্য করা গরুড় বাহিনীর প্রধান কাজ। শুধু তাই নয়, শত্রুদের প্রতিহত করতে তাদের এলাকায় গিয়ে যুদ্ধ করা এই ইউনিটের অন্যতম গুরুদায়িত্ব। পাশাপাশি, বিমান বা সেনাবাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা যুদ্ধের সময় বিপাকে পড়লে, তাঁদের সাহায্য করা গরুড় কমান্ডোর প্রধান কাজ। এই বাহিনীর যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও অধিকার রয়েছে।

বাকি সময়ে কাজের ধরন

বাকি সময়ে জঙ্গি দমন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ত্রাণ পাঠানো, দুর্গতদের সাহায্য করা অন্যতম প্রধান কাজ।

গরুড় বাহিনীর জন্য বাছাই

সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনী থেকে গরুড় কমান্ডো ইউনিটে যোগদানের তেমন সুযোগ থাকে না। গরুড় কমান্ডো ইউনিট শুধুমাত্র এয়ার ফোর্সের সদস্যরা যোগ দিতে পারেন। গরুড় কমান্ডো বাহিনীতে প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার আগে প্রথমে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের সদস্যরা যোগাযোগ করার পর প্রথমে ৭২ সপ্তাহের বেসিক ট্রেনিং হয়। এরপর একটি পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চমানের প্রার্থীদের নির্বাচন করা হয়। তারপরেই গরুড় কমান্ডো ইউনিটের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এই প্রশিক্ষণ তিন বছরের হয়।