এদেশে কেরলেই এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। এক বা দুই নয়, পরপর তিনজনের শরীরে মিলেছে এই মারণ ভাইরাস। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেরলে করোনাকে 'রাজ্য বিপর্যয়' ঘোষণা করতে হয়েছিল। স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছিল রাজ্য সরকার। তবে মারণ করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শেষপর্যন্ত জিতেই কেল কেরলের স্বাস্থ্য দফতর।

উহান থেকে দেশে ফেরা তিন করোনা আক্রান্তই এখন সুস্থ রয়েছেন বলে দাবি করছেন কেরলের অর্থমন্ত্রী থমাস ইসাক। চিনে করোনার এপিসেন্টার উহান থেকে দেশে ফেরার পরেই করোনা ভাইরাস পাওয়া যায় ওই মেডিক্যাল পড়ুয়ার শরীরে। তারপর থেকেই কেরলের তিন সরকারি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁদের চিকিৎসা চলছিল। 

কেরলের অর্থমন্ত্রী ট্যুইট করেছেন, "নিপার মত করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জিতেছি আমরা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক যে ৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস চিহ্নিত করেছিল তাঁরা সকলেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এখনও পর্যন্ত আর কারও শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়নি। করোনার উপসর্গ নিয়ে পর্যবেক্ষণে থাকা মানুষের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে।"

 

গত ৩ ফেব্রুয়ারি দেশের মধ্যে প্রথম কেরলেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। তারপর থেকেই সচেতন ছিল কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রক। গত বৃহস্পতিবারই কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানায়, প্রথম দু'জন করোনা আক্রান্ত পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তৃতীয় করোনা আক্রান্তও সুস্থ হওয়ার পথে, যদিও তাঁকে আরও কিছুদিন পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে।

বর্তমানে করোনার উপসর্গ নিয়ে কেরলে স্বাস্থ্য দফতরের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ২,৩৯৭ জন। এদের মধ্যে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন ২,৩৭৫ জন। বাকি ২২ জনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে। 

এরআগে ২০১৮ সালে নিপা ভাইরাসের কবলে পড়েছিল কেরল। তাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১৭ জন। সেবারও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-এর পরামর্শ মেনে নিপার বিরুদ্ধে জিতেছিল কেরলের স্বাস্থ্য দফতর।