মহামারির সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে প্রকৃতি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আর তা রুখতে দীর্ঘদিন ধরেই কঠিন লকডাউন জারি থাকায় তীব্র সমস্যার মুখে পড়েছে দেশের বহু মানুষ। অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। আবার অনেকেরই আয় আগের তুলনায় কমেছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চোখ রাঙাচ্ছে প্রকৃতি। কারণ বর্ষা শুরু হওয়ার আগে আবহাওয়া দফতর সাধারণ বৃষ্টি হবে বলেই পূর্বাভাস দিয়েছিলে। কিন্তু হল তার বিপরীত। চলতি বছর মনসুন অন্য বছরগুলির তুলনায় অনেকটাই দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়েছে। আর তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে কৃষি ক্ষেত্রে। অন্যবারের তুলনায় এবছর সেপ্টেম্বরে অনেকটাই বেশি বৃষ্টি হয়েছে। আর সেই কারণে পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে সবজির দাম চড়তে শুরু করেছে। 


গত দুসপ্তাহ ধরেই নিত্যপ্রয়োজনীয় আলু আর পেঁয়াজের দাম বাড়ছে স্থানীয় বাজারগুলিতে। লোকাল সার্কেলস নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দেশের ২১৬টি জেলার ১৫হাজার মানুষের ওপর সমীক্ষা করেছে। আর তাতে দেখা গেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শুরুর দিক থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছিল। মেট্রো সিটি আর সংলগ্ন ৪টি শহরে এই সার্ভে করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি গ্রামীণ এলাকায়ও সমীক্ষা চালিয়েছিল লোকাল সার্কেলস। ক্রেতাদের কাছে সংস্থার মূল প্রশ্নই ছিল আলু পেঁয়াজ আর টমেটো কিনতে তাঁদের কত টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। অধিকাংশ উত্তর দিয়েছেন আগের তুলনায় ৬০ শতাংশ দাম বেড়েছে টমেটোর। ৩০ শতাংশ দাম বেড়েছে আলুর আর পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ। 

৪০ শতাংসের বক্তব্য ৭০ টাকার বেশি কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো। আলু বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কিলোদরে। আর পেঁয়াজের কিলো ৩০ টাকা। ২১ শতাংশের বক্তব্য ৬০-৬৯ টাকা কিলো দরে তাঁরা টমেটো কিনছেন। আলু কিনছেন ৩০-৩৫ টাকা কিলো দরে। আর পেঁয়াজ কিনছেন ২৫-২৯ টাকা কিলোদরে। ১৯ শতাংশের বক্তব্য তাঁরা টমেটো কিনছেন ৪০-৫৯ টাকা কিলোদরে। আলুর কিলো ২০-২৯ টাকা। আর পেঁয়াজের দাম ১৫-২৪ টাকা। তবে মাত্কর ৭ শতাংশ মানুষই জানিয়েছেন তাঁরা কিছুটা হলেও সস্তায় সবজি কিনতে পারছেন। তাঁরা ৩৯ টাকায় এক কিলো টমেটো কিনেছেন। আর আলু কিনেছেন ১৯ টাকা কিলো দরে। আর ১৪ টাকা কিলোদরে কিনেছেন পেঁয়াজ। ১৩ শতাংশ মানুষই নতুন দাম জানেন না বলেই জানিয়েছেন। 

যার অর্থ হল ২১ শতাংশই বলছেন কিলোপ্রতি ৬০ টাকা দাম বেড়েছে টমোটের। আলুর ৩০ আর পেঁয়াজের ২৫ টাকা দাম বেড়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, করোনাভাইসের সংক্রমণের পাশাপাশি তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি, শ্রমিকের সংখ্যা কম থাকা, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায়- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূব্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। যার প্রভাব পড়তে শুরু হয়েছে কাজ হারানো আর বেতন বা মজুরি কমে যাওয়ার মানুষদের মধ্যে।  সিএমআইএ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত অগাস্ট মাসেই ২১ মিলিয়ন মানুয কাজ হারিয়েছেন। আর সংসার চালানোর নূন্যতম খরচ বেড়ে যাওয়ার রীতিমত সমস্যায় পড়তে শুরু করেছেন তাঁরা। 

 যার অর্থ ৭৩ শতাংশ গৃহস্থ জানিয়েছেন, আগের তুলনায় বাজার করতে তাঁদের অনেক বেশি টাকা খবর হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই সংসার খরচে তাঁরা কাটছাঁট করছেন। অনেকই জানিয়েছেন মহামারির সময় আতঙ্কে বেশি করে খরিদারি করে রেখে ছিলেন। আগামী দিনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। কারণ  প্রবল বর্ষার কারণে রীতিমত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শস্য। ইতিমধ্যেই মজুত শস্য নষ্ট হয়েছে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার আর রাজ্যসরকারের কাছে আবেদন জানান হয়েছে।