গত বেশ কয়েক বছর ধরে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রবীন বনাম নবীন দ্বন্দ্ব চলছে। মঙ্গলবার এই দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতি হিসাবে কংগ্রেসকে হারাতে হয়েছে তাদের অন্যতম প্রতিশ্রুতিমান নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে। মধ্যপ্রদেশে যেমন ছিল কমলনাথ-দিগ্বিজয় সিং বনাম জ্যোতিরাদিত্য, তেমনই রাজস্থানে অশোক গেহলটের মাথাব্যথা হিসাবে রয়েছেন তরুণ নেতা সচিন পাইলট। কমলনাথ-এর মতো অবস্থা হওয়ার আগেই বিপদ বুঝে সুর চড়িয়ে রাখলেন গেহলট।

এদিন একের পর এক টুইটে অশোক গেহলট বলেছেন, জাতীয় সঙ্কটের সময়ে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো এক নেতার স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাই বলছে। বিশেষত বিজেপি যখন দেশের অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক কাঠামো এবং বিচার বিভাগকে নষ্ট করে দিচ্ছে, সেই সময় কেউ কীভাবে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলাতে পারে, তাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের এই বর্ষিয়ান নেতা।

কমলনাথের মতো অবস্থা কিন্তু হতে পারে গেহলট-এরও। তাঁকেও সিন্ধিয়ার মতো এক বয়সে তরুণ উচ্চাকাঙ্ক্ষী নেতার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সচিন আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজস্থান বিধানসভা ভোটে দলের জয়ে তার যে ভূমিকা ছিল, সেই অনুযায়ী পুরষ্কার পাননি তিনি। বিধানসভা ভোটের পর তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সচিন পাইলট-কে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবি থাড়তে রাজি করিয়েছিলেন।

অশোক গেহলট সেইসময় শীর্ষ নেতৃত্বকে বুঝিয়েছিলেন, লোকসভা তুনির্বাচনে তিনি দলকে ভালো ফলাফল এনে দেবেন। পাইলটকে গেহলটের সহকারি মনোনীত করা হয়। কিন্তু, দুজনের মধ্যে কোনওদিনই সুসম্পর্ক গড়ে ওঠেনি। লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেস র একটিও আসন জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর ফের এই নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল শুরু হয়েছিল। সচিন পাইলট এবং তাঁর অনুগতরা খারাপ ফলের জন্য নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি জানান। কিন্তু, তারপরেও কংগ্রেস তা মানেনি। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এখন সবার নজর রাজস্থানের দিকে।