দ্বিতীয় দফার যাত্রা শুরু করেছেন মোদী সরকার। কাজে গতি আনতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে ক্যাবিনেট কমিটি গুলি। বুধবারই আটটি নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। 

দেখা যাচ্ছে নব গঠিত এই আট মুখ্য কমিটির ছ'টিতে মাথা হিসেবে রয়েছেন মোদী নিজে, ছ'টি কমিটিতে রয়েছেন  নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। উল্লেখ্য এই আটটি কমিটিতেই সাধারণ মুখ অমিত শাহ। মোদীর এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করছে মোদীর কতটা বিশ্বাসভাজন তিনি।

 এই আটটি কমিটির মধ্যে রয়েছে- নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটি, সংসদীয় বিষয় সংক্রান্ত কমিটি, রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি, বিনিয়োগ ও বিকাশ সংক্রান্ত কমিটি, কর্ম সংস্থান ও স্কিল ডেভলপমেন্ট সংক্রান্ত কমিটি, অ্যাকমোডেশান  কমিটি।

রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটিতে অমিত শাহ-র অন্তর্ভুক্তিকরণ খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ প্রধানমন্ত্রী অনুপস্থিতিতে প্রশাসনের যে কোনও রাজনৈতিক সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নেন তাঁর ঠিক পরের জন, অর্থাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অতীতে এই পদে আসীন ছিলেন প্রথম মোদী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। এবার তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কমিটিতে। 

প্রসঙ্গত রাজনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটিতে এবার রয়েছেন পীযূষ গোয়েল, নীতিন গড়়কড়ি, নির্মলা সীতরামন, হারসিমরত কৌর বাদল, রামবিলাস পাসোয়ান, প্রহ্লাদ যোশি, নরেন্দ্র তোমর, রবিশঙ্কর প্রসাদ এবং অবশ্যই নরেন্দ্র মোদী। 

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা  বলছেন, অমিত শাহ-র পরামর্শ ছাড়া কোনও কাজই করেন না মোদী। মন্ত্রীসভা গঠনের আগে টানা পাঁচ ঘণ্টা  নিভৃতে কথা বলেছিলেন মোদী-শাহ জুটি। শোনা যায়, সেই পাঁচ ঘণ্টাতেই পাঁচ বছরের রুটম্যাপ স্থির হয়ে যায়। এবারের সিদ্ধান্তেও ফের প্রমাণ যে অমিত শাহ আসলে মোদী২ এর 'মিস্টার ডিপেন্ডেবেল'। অমিত শাহর ওজন বাড়িয়ে দলকেও একটা বার্তা দিতে চাইছেন মোদী। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিজেপির ঘোষিত নীতি, 'এক ব্যক্তি এক পদ'। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আটটি কমিটিতে অমিত শাহকে রাখাই শুধু নয়, দলীয় সভাপতির পদেও বহাল থাকছেন তিনি।  এর থেকেই বার্তা শুধু নতুন সরকার নয় নতুন বিজেপিও গড়তে চাইছেন মোদী।