এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ অম্বানির ছোট ভাই তিনি। অথচ তাকেই আইনি খরচ করচা চালানোর জন্য তার জমা সব গয়না বিক্রি করে দিতে হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আদালতে এক মামলার শুনানি-তে এমনটাই দাবি করলেন অনিল অম্বানি। তিনি আরও বলেন, তিনি একজন অতি 'সাধারণ রুচির সাধারণ মানুষ'। গাড়িও ব্যবহার করেন মাত্র একটি।

আদালতে তিনি দাবি করেবন, তাঁর জীবনযাত্রা সম্পর্কে 'অনুমানের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যম যে কাহিনিগুলি' লেখে, তা অত্যন্ত অতিরঞ্জিত। অনিল দাবি করেছেন তাঁর কোনওদিন রোলস রয়েস গাড়ি ছিল না। তিনি বর্তমানে মাত্র একটি গাড়ি ব্যবহার করেন। আর ২০২০ সালের জানুয়ারী থেকে জুনের মধ্যে তার সমস্ত গয়না বিক্রি করে তিনি ৯.৯ কোটি টাকা পেয়েছেন, তাই দিয়েই আইনি খরচ চালাচ্ছেন। অনিল অম্বানি আরও দাবি করেন, তাঁর জীবনধারা অত্যন্ত সাধারণ এবং অন্য কোনও আয়ের সংস্থানও নেই। ব্যয় খুবই কম, তা তাঁর স্ত্রী ও পরিবার বহন করে। তিনি বলেন, গা সব ফুরিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় তাঁকে আরও ব্যয় করতে গেলে অন্যান্য সম্পদ বিক্রির জন্য আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। "

তিনটি চিনা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক অনিল অম্বানির বিরুদ্ধে ঋণখেলাপের মামলা দায়ের করেছে। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত গ্যারান্টিতে প্রায় ৯২৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিল এই ভারতীয ব্যবসায়ী। সেই ঋণের ৬৮০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে। গত ২২ মে, যুক্তরাজ্যের আদালত তাকে ১২ জুনের মধ্যে চিনা ব্যাঙ্কগুলিকে মোট ৭১৬.৯ মিলিয়ন ডলার বা ৫,৮২১ কোটি টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেইসঙ্গে আইনি খরচা হিসাবে আরও ৭,৫০,০০০ ডলার বা ৭ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। গত ১৫ জুন, অনিল অম্বানী বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর চিনা ব্যাঙ্কগুলি অম্বানির সম্পত্তির হিসাব চেয়েছিল।