আক্রান্ত দেশের বিখ্যাত টিভি সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী। বুধবার গভীর রাতে স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় দুই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি তাঁদের উপর হামলা চালায় বলে জানা যাচ্ছে। রিপাব্লিক মিডিয়া নেটওয়ার্কের প্রধান সম্পাদক অর্ণবের বিরুদ্ধে কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

জানা গিয়েছে, নিউজ চ্যানেলে রাতের শো শেষে টয়োটা গাড়িতে করে স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছেলন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে সাংবাদিকের উপর এই আক্রমণ চালানো হয়। অভিযোগ মুখোশপরা দুষ্কৃতীরা অর্ণবের গাড়িতে বোতলও ছোঁড়ে।

 

তবে বাইকে আসা দুই দুষ্কৃতী পালাতে পারেনি। অর্ণবের নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের ধরে ফেলে। সাংবাদিকের দাবি, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে ধৃতরা। অভিযুক্তরা যুব কংগ্রেসকর্মী বলে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানান অর্ণব। রাতে অভিযোগ জানাতে পাশের পুলিশ স্টেশনেও যান সাংবাদিক। যদিও এইআইআরে দুই যুব কংগ্রেসকর্মীর নাম লিখতে পুলিশ অস্বীকার করে বলে অভিযোগ রিপাব্লিক টিভির।

অর্ণব গোস্বামীর দাবি, ধৃতরা জানিয়েছে,  উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তারা তাঁকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটার পরেই অর্ণব তাঁর বহুতলের বেসমেন্টে দাঁড়িয়ে একটি লাইভ শো করেন। যেখানে তিনি আক্রমণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন এবং অভিযোগ করেন আক্রমণের নেপথ্যে আছে সোনিয়া গান্ধীর মস্তিস্ক। তিনি বলেন,  নিরন্তর তিনি কংগ্রেস এবং নেহেরু - গান্ধী পরিবারের দুর্নীতির কথাপ্রকাশ করে চলেছেন। কদিন আগে প্রিয়াঙ্কা  গান্ধী গুজরাতে করোনা মোকাবিলায় হিন্দু মুসলমানের ভেদ করা হচ্ছে বলে যে মিথ্যা কথা বলেছিলেন,  তা তিনি ফাঁস করে দিয়েছেন বলেই এই আক্রমণ। অর্ণব সোনিয়া গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ করে ওই লাইভ শো তে বলেন,  যত পারেন গুন্ডা নামান সোনিয়া গান্ধী,  তিনি তাঁদের আরও দুর্নীতি ফাঁস করবেন।

 

 

গত সপ্তাহে মহারাষ্ট্রের পালঘরে দুই সাধু ও তাঁদের চালকে পিটিয়ে মারা হয়। তাঁদের মধ্যে এক সাধুর বয়স ছিল ৭০ বছর। এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী কেন চুপ, তা নিয়ে নিজের লাইভ অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করেছিলেন অর্ণব গোস্বামী। পালঘর গণপিটুটি কাণ্ডে ক্ষুব্ধ রিপাব্লিক টিভির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী নিজের লাইভ অনুষ্ঠান চলাকালীন অডিটর্স দিল্ড অফ ইন্ডিয়া থেকে পদত্যাগ করার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি গিল্ডের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক শেখর গুপ্তাকেও বিষোদগার করেন অর্ণব। পাশাপাশি পালঘর নিয়ে চুপ থাকায় নাসিরুদ্দিন শাহ, অনুরাগ কাশ্যপ ও অপর্ণা সেনেদের মত বুদ্ধিজীবিদের চুপ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

এদিকে পালঘরকাণ্ডে যেভাবে অর্ণব গোস্বামী যেভাবে দলের সভানেত্রী সনিয়া গান্ধীকে নিশানা করছেন তাতে কংগ্রেস আইনি পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ণবের বিরুদ্ধে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট সহ ইতিমধ্যে একাধিক কংগ্রেস নেতাও মুখ খুলেছেন।