শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছিলেন তাঁর তৃতীয় দিনের পদক্ষেপগুলির ফোকাসে থাকবে কৃষিকাজ এবং তার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। এর আগের দুইদিনে তিনি ক্ষুদ্র অতিক্ষুদ্র ব্যবসা, আর্থিক সংস্থা এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এদিন তিনি জানান, মোট ১১ পদক্ষেপ ঘোষণা করবেন, যার মধ্যে আটটি পরিকাঠামো এবং স্টোরেজ সুবিধা জোরদার করার সঙ্গে সম্পর্কিত, এবং তিনটি সরকারি ও প্রশাসনিক সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি জানান, সরকার ক্ষুদ্র খাদ্য উদ্যোগ বা এমএফই-গুলির ফর্মালাইজেশন বা সরকারিকরণের জন্য ১০০০০ কোটি টাকার প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর 'ভোকাল ফর লোকাল উইদ গ্লোবাল আউটরিচ' দর্শন মেনেই নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, অসংগঠিত এমএফই-গুলির এফএসএসএআই খাদ্য মান অর্জন করতে, ব্র্যান্ড তৈরি করতে এবং বিপণনের জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রায় ২ লক্ষ এমএফই-কে এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করার জন্য একটি প্রকল্প চালু করা হবে। ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের উৎপাদনের জন্য প্রসিদ্ধ, যেমন বিহারে ঘি, কাশ্মীরে জাফরান, উত্তরপূর্বভারতে নানান ধরণের ফল ইত্যাদি। এইভাবে ক্লাস্টার ভিত্তিক পদ্ধতিতে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে।
এতে করে এইসব দেশজ খাদ্যপণ্যের স্বাস্থ্যগত ও সুরক্ষাগত মান উন্নত হবে, খুচরা বাজারের সঙ্গে সংহতি বাড়বে এবং আয়-ও বাড়বে বলে সরকারের আশা। এই সকল পণ্য এখনও পর্যন্ত যে যে রফতানি বাজারে পৌঁছাতে পারেনি, সেইগুলিতে এইসব পণ্য পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে সরকার। বিভিন্ন রাজ্যের শক্তিশালী উৎপাদন ক্ষেত্রগুলির সুবিধা নেওয়াই এই প্রকল্পের লক্ষ্য।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে গত দুইমাসে ন্যূনতম সমর্থন মূল্যে ৭৪,৩০০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য কেনা হয়েছে। ১৮,৭০০ কোটি টাকার ডিবিটি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ফশল বিমা যোজনায় কৃষকরা পেয়েছেন ৬,৪০০ কোটি টাকা। কৃষকদের জন্য ফার্ম-গেট পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে কৃষি-পরিকাঠামো তহবিলের জন্য 1 লক্ষ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়া অর্থমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন লকডাউন সময়ে, দুধের চাহিদা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুগ্ধ সমবায়গুলিকে বছরে ২ শতাংশ সুদের হারে ঋণ দেওয়াকর জন্য একটি নতুন প্রকল্পের কথা ভেবেছে সরকার। এই প্রকল্পটির অধীনে বাজারে আরও ৫০০০ কোটি টাকার অর্থ আসবে এবং ২ দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্ত ২ কোটি কৃষক এতে উপকৃত হবেন।