চারটি ব্যাঙ্ক অফিসার ইউনিয়নের ক্লাস্টার টানা চারদিন ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘট হওয়ার কথা। চারটি ব্যাঙ্ক  ইউনিয়ন - অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার কনফেডারেশন, দ্য অল ইন্ডিয়া ব্যাঙ্ক অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, দ্য ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অফিসার্স কংগ্রেস এবং দ্য ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অফ ব্যাঙ্ক অফিসার্স এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। 

এই ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ফলে নতুন সপ্তাহে মাত্র ২ দিন ব্যাঙ্কের কাজ হবে। তারপরে ব্যাঙ্ক খুলবে ৩০ তারিখ। নতুন সপ্তাহের শনিবার এমনিতেই মাসের শেষ সপ্তাহ। ফলে ওই দিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকার-ই কথা। ৩০ তারিখের পর থেকেই পুজোর ছুটির আমেজ শুরু হয়ে যাবে। স্বভাবতই মানুষের কাছে ব্যাঙ্কের জরুরি কাজ মেটানোর জন্য ২২ থেকে ২৭ তারিখ যথেষ্টই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের ঘোষণায় ৩০ তারিখ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাঙ্কগুলিতে প্রবল ভীড় হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। 

ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের জেরে এটিএম পরিষেবাতেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (এনইএফটি) এবং (আরটিজিএস ) রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম পেমেন্ট সিস্টেম পরিষেবা ডিসেম্বর থেকে চব্বিশ ঘণ্টা পাওয়ার কথা। এই মুহূর্তে এই পরিষেবাগুলি ব্যাঙ্কিং আওয়ার্সে-ই বরাদ্দ রয়েছে। ফলে, ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের খুব একটা স্বস্তি নেই এই মুহূর্তে। এনইএফটি এবং আরটিজিএস পরিষেবাগুলি মাসের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ শনিবার ছাড়া প্রায়  সমস্ত কাজের দিনেই  সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত পাওয়া যায় । যদিও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মতে, ধর্মঘট কোনও ছুটি নয়, তাই  ২৩ থেকে ২৭-র মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং  এবং অনলাইন আরটিজিএস / এনইএফটি / আইএমপিএস / ইউপিআই ট্রান্সফার কোনওভাবেই বিঘ্নিত হবে না। এই পরিষেবাগুলো যথাযথভাবেই গ্রাহকরা পেয়ে যাবেন। 

বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। এবারের ধর্মঘটে সমস্যার সুরাহা না হলে নভেম্বর থেকে চারটি ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাওয়ার হুমকিও দিয়েছে। ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের বিরুদ্ধে আবার অল ইন্ডিয়া ব্যাংক কর্মচারী সমিতি বা  এআইবিইএ এবং ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া বা বিইএফআই -  নামে আরও দুটি কর্মচারী ইউনিয়ন ২২ অক্টোবর ধর্মঘটের ডাক দিয়ে রেখেছে।