গালওয়ান অঞ্চলে দুই মাস ধরে এক অবস্থানে অনড় ছিল চিন ও ভারতীয় সেনা। কিন্তু রবিবার থেকে অবস্থা পাল্টে গিয়েছে। গালওয়ান উপত্যকা থেকে ধীরে ধীরে তারা পিছনে সরে যাচ্ছে। একটি সেনা সূত্র জানিয়েছে আপাতত ১ থেকে ১.৫ কিলোমিটার পিছনে সরে গিয়েছে পিএলএ। গত দুইমাসের মধ্যে প্রথমবার চিনের পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ দেখা গেল। আর এর পিছনে রয়েছে সেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের চাল। রবিবার চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে ভিডিও কলের ২ ঘন্টা বৈঠক করেন এনএসএ।

জানা গিয়েছে, এনএসএ অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশ মন্ত্রী ই-এর কথোপকথনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণের রেখা বরাবর 'পূর্ণ ও স্থায়ীভাবে শান্তি ফেরানো'র বিষয়ে দুই পক্ষ থেকেই সম্মতি এসেছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনা এড়াতে দু'পক্ষ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও একমত হয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্থা পরামর্শদাতা অজিত ডোভাল এবং চিনা বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই সীমান্ত বিবাদ বিষয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধি হিসাবে রবিবার এই বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে ভারত-চিন পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলির বিষয়ে খোলামেলা এবং গভীর মতবিনিময় হয়েছে।

ওই এলাকায় সম্পূর্ণ শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর দুই পক্ষই অবিলম্বে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছে। সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি অতি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা উচিত বলেও দুই পক্ষই মেনে নেয়। ভারত-চিন সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি বজায় রাখা 'দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও বিকাশের জন্য অপরিহার্য' এবং উভয় পক্ষের উচিত নয় 'মতপার্থক্যকে বিরোধে' পরিণত করা - নরেন্দ্র মোদী ও শি জিনপিং-এর ঘরোয়া বৈঠকের সেই ঐক্যমত থেকে দিকনির্দেশনা নেওয়ার বিষয়েও একমত হন ডোভাল এবং ওয়াং ই।

এই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, ভারত-চিন সীমান্ত অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে এবং ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি দুই পক্ষকেই নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, একতরফাভাবে স্থিতাবস্থার রদবদল ঘটানো যাবে না। ভবিষ্যতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের শান্তি ও প্রশান্তি বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনও ঘটনা এড়াতে একত্রে কাজ করা উচিত।

এই বৈঠকের পরই এতদিন ধরে জমতে থাকা সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করে। এদিন ভারতীয় সেনা কর্তারা জানিয়েছেন, গালওয়ানের স্ট্যান্ডঅফ পয়েন্ট থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পিছিয়ে গিয়েছে পিএলএ। ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসছে ভারতীয় সেনাও।