লন্ডনকে টপকে গেল বেঙ্গালুরু। ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবথেকে দ্রুত বর্ধনশীল প্রযুক্তি হাব হিসাবে উঠে এল ভারতের এই শহর। বৃহস্পতিবার লন্ডনে প্রকাশিত এক নতুন গবেষণা এই তথ্যই দিয়েছে। এই তালিকায় ভারতের অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বই রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। আর দুই ভারতীয় শহরের মাঝে ৩ থেকে ৫ নম্বরে রয়েছে যথাক্রমে লন্ডন, মিউনিখ, বার্লিন এবং প্যারিস - এই ৪ ইউরোপীয় শহর।  

গবেষণাটি করেছে লন্ডনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থার মেয়র 'লন্ডন অ্যান্ড পার্টনার্স'। ডিলরুম.কম-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, ভারতের সিলিকন ভ্যালি, বেঙ্গালুরুতে ২০১৬ সালে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ০.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২০ সালে তা ৫.৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। আর এই চার বছরে মুম্বই শহরের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বেড়েছে ১.৭ গুণ। ২০১৬ সালে ছিল ০.৭ বিলিয়ন ডলার, ২০২০-তে হয়েছে ২.২ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, তালিকার দ্বিতীয় শহর ইংল্যান্ডের রাজধানী লন্ডনের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ২০১৬-২০২০ সালের মধ্যে বিনিয়োগ তিনগুণ বেড়ে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ১০.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

লন্ডন অ্যান্ড পার্টনার্স সংস্থার ভারতীয় প্রতিনিধি হেমেন ভারুচা বলেছেন, বেঙ্গালুরু এবং লন্ডনের শীর্ষ দুই দ্রুত বর্ধনশীল গ্লোবাল টেক হাব হওয়াটা দারুণ বিষয়। কারণ, দুটি শহরই প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের এবং সংস্থাগুলির ব্যবসার জন্য প্রচুর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। উদ্যোগ থেকে উদ্ভাবন - সমস্ত ক্ষেত্রেই এই দুই শহর পরস্পরের সঙ্গে শক্তি ভাগ করে নিয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলে যুক্তরাজ্য এবং ভারতের মধ্যে ভবিষ্যতে অংশীদারিত্বের কত সুযোগ রয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মহামারী সত্ত্বেও, লন্ডন এবং ভারতের প্রযুক্তি সংস্থাগুলি গেম চেঞ্জিং প্রযুক্তি তৈরির কাজ থামায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সামগ্রিক তালিকায় কর্ণাটকের রাজধানী ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে। পিছনে ফেলেছে বেজিং, সান ফ্রান্সিসকো, নিউইয়র্ক, সাংহাই, লন্ডন-এর মতো প্রযুক্তি-বিশ্বে তথাকথিত অগ্রনী শহরগুলিকে। অন্যদিকে এই তালিকায় মুম্বই রয়েছে ২১তম স্থানে।