মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন ২০১৯-এর ইস্তেহারে বিজেপি বিনায়ক দামোদর সাভারকরকে ভারত রত্ন উপাধি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তারপর থেকেই সাভারকর আদৌ ভারত রত্ন পাওয়ার যোগ্য কি না, সেই তর্ক শুরু হয়েছে। একসময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নেওয়া লেখক তথা আইনজীবী তথা হিন্দু মহাসভার প্রতিষ্ঠাতা সাভারকর-এর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ রয়েছে। প্রতিটি অভিযোগই অবশ্য হিন্দুত্ববাদীরা খণ্ডন করে থাকেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ রয়েছে, আর সেই অভিযোগের পাল্টা দাবিগুলিই বা কী -

প্রথম অভিযোগ - আন্দামান জেলে থাকাকালীন সাভারকর ব্রিটিশদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন

পাল্টা দাবি: তাঁর আত্মজীবনীতে সাভারকর জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার আবেদন করার কথা মেনে নিয়েছিলেন। তবে তাঁর দাবি ছিল, তিনি যা করেছিলেন সবটাই তখনকার ব্রিটিশ আইনের মধ্যে থেকে করেছিলেন। দাবি করেছিলেন ক্ষমা চাওয়া বা ব্রিটিশদের মন পাওয়ার কোনও চেষ্টা তিনি করেননি।

অভিযোগ দুই - আন্দামান জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি ব্রিটিশদের সহায়তা করেছিলেন, নেতাজির বিরোধিতা করেছিলেন
   
পাল্টা দাবি: ১৪ বছর গৃহবন্দী থাকার সময়ে সাভারকর হিন্দু ধর্মের প্রচলিত অচ্ছুত প্রথা ও নানাবিধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়েছিলেন। এমনকী সকলে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি-তে যোগ দিতে উৎসাহিত করার জন্য নেতাজিও না কি তাঁর প্রশংসা করেছিলেন।

অভিযোগ তিন - সাভারকর দুই রাষ্ট্র তত্ত্বের সমর্থক ছিলেন

পাল্টা দাবি: ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত দৈনিক কাল পত্রিকায় সাবারকর খোলাখুলি দেশভাগের বিরোধিতা করেছিলেন। হিন্দু মহাসভার সদস্যদেরও দেশভাগের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

অভিযোগ ৪ - মহাত্মা গান্ধীর হত্যায় জড়িত ছিলেন

পাল্টা দাবি: আদালতে সাভারকরের বিরুদ্ধে গান্ধী হত্যায় জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। নাথুরাম গডসে অবশ্য সাভারকরের হিন্দু মহাসভারই সদস্য ছিলেন। কিন্তু গান্ধী হত্যার ষড়যন্ত্রে তিনি জড়িত ছিলেন এমন কোনও অভিযোগ ছিল না।