চিন থেকে সরিয়ে বিভিন্ন সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তুলতে চেয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স কোম্পানি থেকে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড-এর শাখা সংস্থাগুলির আগ্রহে, সেই প্রচেষ্টা কাজ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত মার্চ মাসেই আত্মনিরর্ভর ভারত প্রচারের আওতাতেই ভারতে বিদেশী সংস্থাগুলির বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ পরিবর্তন এনেছিল মোদী সরকার। এর ফলে ভারতে ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি পরবর্তী পাঁচ বছরে তাদের বিক্রয় বৃদ্ধির ৪ থেকে ৬ শতাংশ অর্থ প্রদানের জন্য সুবিধা করে দিয়েছিল।

এর ফল এই কয়েক মাসের মধ্যেই ফলতে শুরু করেছে। প্রায় ২৪টি ইলেকট্রনিক্স সংস্থা ভারতে মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপনের জন্য ১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্যামসাং ও অ্যাপল ছাড়া আগ্রহী সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে, হন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রি কোম্পানি, ফক্সকন, উইস্ট্রন কর্পোরেশন, পেগাট্রন কর্পোরেশন প্রভৃতি।

তবে মোবাইল প্রস্তুতকারক এই সংস্থাগুলির ভারতমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ মার্কিন-চিন বাণিজ্য উত্তেজনা বলে মনে করা হচ্ছে। এতদিন এই সংস্থাগুলির সরবরাহ শৃঙ্খলের একচেটিয়া দখল ছিল চিনের হাতে। বানিজ্য উত্তেজনা এবং করোনাভাইরাস মহামারির প্রেক্ষিতে সংস্থাগুলি এই সরবরাহ শৃঙ্খলে বৈচিত্র্যে আনতে চাইছে। তাই অনেকেই স্মার্ট ফোনের অন্যতম বড় বাজার ভারতের বিনিয়োগের কথা ভাবছে।  

তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রের পাশাপাশি ওযুধ তৈরি, পোশাক - এইরকম নানা ক্ষেত্রেই বিদেশী লগ্নি টানার জন্য সক্রিয় হয়েছে ভারত সরকার। তারপরেও অবশ্য এখনও সম্পূর্ণ লাভের গুড় খেতে পারছে না ভারত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, চিনের বিকল্প হিসাবে বেশিরভাগ সংস্থআর প্রথম পছন্দ ভিয়েতনাম। তারপর রয়েছে কম্বোডিয়া, মায়ানমার, বাংলাদেশ এবং থাইল্যান্ডের নাম।

ভারতীয় অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মাঝারি মেয়াদে দেশে সরবরাহ শৃঙ্খলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ভারতের এই মুহূর্তে যুক্তিসঙ্গত সুযোগ রয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রেই আগামী পাঁচ বছরে ভারতে ১৫৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য উত্পাদনের আশা করা হচ্ছে। এতে করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি কর্মসংস্থান হতে পারে। আর এর বেশিরভাগটাই আসছে চিন থেকে সরে।