বিহারে এনডিএ-র জয় সহজ হবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছে টাইমস নাও-সি ভোটার-এর বুথ ফেরত সমীক্ষা। বস্তুত, বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২০-র ফলাফল ত্রিশঙ্কু হতে পরে বলে পূর্বাভাস মিলেছে এই বুথ ফেরত সমীক্ষায়। সমীক্ষা বলছে, আধুনিক বিহারীরা স্থিতিসীল উন্নয়ন চান, সেইসঙ্গে রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা হতাশ।

টাইমস নাউ সি-ভোটার বুথ ফেরত সমীক্ষা থেকে দেখা গিয়েছে বিহারে এই নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে লোক জনশক্তি পার্টি বা এলজেপি-র। তবে তারা একেবারে নিজের নাক কেটে জেডি (ইউ) -এর যাত্রা ভঙ্গ করেছে। বহু জায়গাতেই নীতিশ কুমারের দলের বিরুদ্ধে এলজেপি জনপ্রিয় নেতাদের প্রার্থী করায় এনডিএর ভোট কাটা গিয়েছে। আর সেই ভোট কাটার ফসল পুরোটাই ঘরে তুলেছে মহাজোট।

এই সমীক্ষা অনুযায়ী বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মহাজোট পেতে চলেছে ১২০ টি আসন। আর এনডিএ-র ঝুলিতে আসতে চলেছে ১১৬ টি আসন। এলজেপি সম্ভবত ১ টি আসন পেলেও পেতে পারে। বাকি ৬টি আসন অন্যান্য ছোট দল ও নির্দল প্রার্থীরা জিতবেন। বিহারের মোট বিধানসভা আসনের সংখ্যা ২৪৩। এরমধ্যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দরকার ১২২ টি আসন। অর্থাৎ বিহারে এবারে যে কোনো দল বা জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না, তা বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলে পরিষ্কার। তবে তারপরেও এই সমীক্ষা বিহারে সরকার গঠনে এগিয়ে রেখেছে মহাজোটকেই।

গত কয়েক দশক ধরে হিন্দি বলয়ে ক্রমেই কংগ্রেসের ভোট কমতে থাকলেও, বিহারে এইবার তাদের ভোটের পরিমাণ রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে এই সমীক্ষায়। আর তাতে আরও লাভবান হচ্ছে মহাজোট। এছাড়া এক্সিট পোলে পরিষ্কার হয়েছে তেজশ্বী যাদবের ম্যাজিকেই মহাজোটের ভোট দারুণভাবে বেড়েছে। তাঁর বিহারের বেকারত্ব নিয়ে প্রচার সোনা ফলিয়েছে বলে মনে করছেন ভোট বিশেষজ্ঞরা। সমীক্ষাতেও বেসিরভাগ মানুষ জানিয়েছেন তাঁরা ভোট দিয়েছেন বেকারত্ব ও উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে।

তবে, অনেক সময়ই বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল আসল ফলাফলের সঙ্গে মেলে না। কাজেই নীতিশ কুমারের বিদায় হয়ে তরুণ তেজস্বীর উদয় সত্যি সত্যি ঘটবে কিনা বিহারে, তা দেখার জন্য ১০ নভেম্বর গণনার দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।