কর্তব্য পরায়ণতারর আরেক নাম ডি সিভান ৩০ বছর ধরে প্রত্যন্ত এলাকায় চিঠি পৌঁছে দিতেন তিন রোজ ১৫ কিলোমিটার করে হেঁটেছেন জঙ্গলের রাস্তায় এই পরিষেবার জন্য সিভানকে পুরস্কৃত করলেন সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর

তামিলনাড়ুর এক অখ্যাত মানুষ ডি সিভান। টানা ৩০ বছর নীলগিরি পাহাড়ের পথ ধরে প্রতিদিন ১৫ কিলোমিটার হেঁটে পৌঁছে দিয়েছেন খবর। হাতি থেকে ভাল্লুক অনেক বিপদের সামনেই পড়েছেন, কিন্তু কর্তব্যে অবিচল থেকে একই নিয়মমাফিক খবর পৌঁছে দিয়েছেন চাকুরি জীবনের প্রতিদিন। সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন পোস্টম্যান ডি সিভান। আর তাঁকে নিয়েই এখন চর্চা চলছে নেটিজেনদের মধ্যে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

যৌবনে যখন চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তারপর থেকে অনেক সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কালের নিয়মে দেহে এসে বার্ধক্য। তবু পক্ককেশ এই ‘চিরযুবা’ এর প্রাণশক্তিতে থাবা বসাতে পারেনি বয়স। ঘন সবুজে ঘেরা বনের মাঝের পথ বেয়ে প্রতিদিন ৩০ কিলোমিটার পার করেছেন এই পোস্ট ম্যান। সংশ্লিষ্টরা কেউ-ই মনে করতে পারেন না কবে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: তেহরানকে এবার কাছে টানল বেজিং, চাবাহার রেল প্রকল্প থেকে ভারতকে সরিয়ে দিল ইরান

সম্প্রতি আইপিএস সুপ্রিয়া সাহু তার অবসরের পরে তাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “পোস্টম্যান ডি শিবন রোজ ১৫ কিলোমিটার হেঁটে দুর্গম কুনুরে চিঠি পৌঁছে দেন। হাতির হানা, ভালুকের খপ্পর থেকে বেঁচে ঝর্ণা পেরিয়ে পিছল পথ ধেরে হেঁটে একটানা ৩০ বছর এই কাজ করছেন তিনি। গত সপ্তাহ তিনি অবসর নিলেন।”

সামাজিক মাধ্যমে তার সম্পর্কে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তের মধ্যে। নেট পাড়ায় এই চিরযুবার প্রাণ শক্তিকে কুর্ণিশ জানানো শুরু হয়। কুর্ণিশ করলেনবিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখরও। আইপিএস সুপ্রিয়া সাহুর ট্যুইটটি রিট্যুইট করতে দেখা যায় সাংসদকে। লেখেন, সরকারের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্যতম উদাহরণ কে সিভান।

আরও পড়ুন: প্রবাদ সত্যি হল বানভাসি কাজিরাঙায়, প্রাণ বাঁচাতে ছাগলের ঘরে আশ্রয় নিল বাঘ, দেখুন সেই ভিডিও

ট্যুইটারে একের পর এক ট্যুইট করে কে সিভানকে পুরস্কার দেওয়ার দাবি জানাচ্ছিলেন নেটিজেনরা। তা করে দেখালেন সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর। পোস্টম্যান ডি সিভানকে তাঁর কর্তব্যপরায়নতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দিলেন সাংসদ।

Scroll to load tweet…

Scroll to load tweet…

কেবল মুখের বুলি নিয়, সাংসদ রাজীব চন্দ্রশেখর যেভাবে তাঁর পাশে দাঁড়ালেন সেজন্য আপ্লুত সিবান।

Scroll to load tweet…

সিবান যেই এলাকায় চিঠি পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন, সেখানে পৌঁছানর জন্য কন্নুরের ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যেতে হত। ২০১৬ এর মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সিবান প্রতি মাসে ১২ হাজার করে বেতন পেতেন। সিবানকে প্রকৃত নায়ক বলেই এখন আখ্যা দিচ্ছেন নেটিজেনরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সিবানের মতো প্রকৃত নায়কের কাজের ফলেই মানুষের ঘরের দরজা পর্যন্ত সরকারি কাজ পৌঁছে যায়।