তিনি ছিলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। আর সেই বিস্ফোরণ বিশেষজ্ঞকেই সম্প্রতি পার্সেল বোমা দিয়ে তাঁরই এক  সিনিয়র অফিসারের উপর হামলা করার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। এক দূরের সেনাঘাঁটিতে সম্প্রতি তাঁকে ট্রান্সফার করা হয়। তার প্রতিশোধ নিতেই জম্মু-কাশ্মীরের সাম্বা জেলার সেনা ঘাঁটিতে ওই কাজ করতে গিয়েছিলেন ওই বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ জওয়ান, এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ।

জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১৭৩তম ব্যাটেলিয়নের কনস্টেবল সমর পাল ছিলেন একজন প্রথম সারির বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ। এতদিন তিনি কাজ করতেন কুইক রেসপন্স দলের হয়ে। সেখান থেকে তাঁকে প্রত্যন্ত এক স্থানের তুলনামূলকভাবে অপ্রাসঙ্গিক পদে বদলি করাতেই তিনি অপমানিত বোধ করেন। তবে শুধু এই কারণই এর পিছনে রয়েছে এক প্রেমের সম্পর্কও। তার আগে জেনে নেওয়া যাক ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ জানুয়ারি। ওইদিনন সাম্বা ব্যাটালিয়ন সদর দফতরের মূল গেটের সামনে একটি পার্সেল পাওয়া যায়। তাতে, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম লেখা ছিল। উপরে ছিল রূপোলি কাগজ জড়ানো। প্যাকেটটি খোলার পর ভিতরে একটি ব্লুটুথ ডিভাইস ও শক্ত কাগজের বাক্স পাওয়া যায়। বাক্সের ঢাকনাটি সামান্য ফাঁক করতেই ভিতরে বিস্ফোরক এবং ব্যাটারি দেখতে পেয়েছিলেন সেনা সদস্যরা। বোমাটি সঙ্গে সঙ্গে নিষ্ক্রিয় করে তাঁরা পুলিশে খবর দেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ ঘেঁটে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ক্রমেই বুঝতে পারে এটা বাহিনীর কারোরই কাজ। পুলিশ জানিয়েছে অভিযুক্ত সমর পাল বেশ আঁটঘাঁট বেঁধেই নেমেছিলেন। বিএসএফ সদর দফতরের প্রধান ফটকের সেন্ট্রি পোস্টে তিনি আইইডি ভরা ওই প্যাকেটটি রেখে, ওইদিনই  ২৭ দিনের ছুটিতে বাড়ি ফিরে আসেন।

তাঁর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের হুগলির পৈত্রাগাছা গ্রামে। পুলিশের কাছে ঘটনায় তাঁর ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে যেতেই পুলিশ পৈত্রাগাছা গ্রাম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে সাম্বা-য় ফিরিয়ে আনে। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদ। সেই সময় তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। তিনি আরও জানান, সাম্বার বিএসএফ সদর দফতরের এক সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর 'বিবাহ বহির্ভূত' সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমিকার কাছাকাছি থাকবেন বলেই তিনি সদর দফতরে পোস্টিং চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে বর্ডার আউটপোস্টে বদলি করা হয়। সেই রাগেই তিনি এই কাজ করতে গিয়েছিলেন।

প্রায় দিন পনেরো আগে সমর পাল-কে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। আপাতত তদন্ত চলাকালীন তাকে হেফাজতে নিয়ে হিরানগর সাব-জেল'এ রাখা হয়েছে।