নাগরিকত্ব বিল বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ অসম সেই কারণে প্রশ্নের মুখে ভারত-জাপান শীর্ষ বৈঠক গুয়াহাটিতে হওয়ার কথা ছিল এই বৈঠক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসন্ন এই বৈঠক অন্যত্র করার কথা ভাবা হচ্ছে

বুধবার রাজ্যসবায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯। রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিলেই এই বিল আইনে রূপায়িত হবে। কিন্তু এই বিলকে কেন্দ্র করে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিশেষ করে অসম রাজ্য যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, তা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার। আর এর জেরে প্রশ্নের মুখে পড়ছে ভারত-জাপান দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ডিসেম্বরের ১৫-১৬ তারিখে অসমের রাজধানী গুয়াহাটি-তেই ভারত ও জাপানের দুই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও সিনজো আবের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বুধবার থেকে অসমের পরিস্থিতি যেরকম অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে তাতে সেই বৈঠক আদৌ গুুয়াহাটিতে করা যাবে কিনা তাই নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের স্থান নয়াদিল্লিতে সরিয়ে আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

বুধবার গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়ে তে কার্ফু জারি করা হয়েছে। রাতে বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর চালিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে, রেলস্টেশনে। তিন জেলায় মোতায়েন করতে হয়েছে সেনা। নিশানা করা হচ্ছে বিজেপি নেতাদের বাড়ি। এই পরিস্থিতিতে গুয়াহাটিতে প্রধানমন্ত্রী গেলে বিক্ষোভের আঁচ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সামনে মুখ পুড়বে মোদী প্রশাসনের।

প্রাথমিকভাবে আবে প্রশাসন গুয়াহাটিতে শীর্ষ বৈঠক করতে নারাজ ছিল। তারা নয়াদিল্লিতেই বৈঠক হোক চেয়েঠিসল। কিন্তু মোদী প্রশাসনই অসমের রাজধানীতে শীর্ষ বৈঠক করতে বদ্ধপরিকর ছিল। প্রথম মোদী সরকারের সময় থেকেই প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে রাজধানীতে কেন্দ্রীভূত না রেখে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চেষ্টা করেছে। ববিশেষ করে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি যাতে অবহেলিত বোধ না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। তার জন্যই অসমে জাপানের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে একটু হলেও চাপে রয়েছেন মোদী। নতুন মহাবিকাশ আগাড়ি সরকার বলে দিয়েছে, জাপানের সহায়তায় মোদী সরকার যে বিলিয়ন ডলারের মুম্বই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পের পরিকল্পনা করেছে, তা তারা পর্যালোচনা করবে। এই নিয়ে জাপান, মোদী প্রশাসনের উপর অসন্তুষ্ট। এছাড়া আরসিইপি থেকে আচমকা ভারতের বেরিয়ে যাওয়াটাও আবে প্রশাসন ভালোভাবে নেয়নি বলেই জানা গিয়েছে। কাজেই আসন্ন মোদী-আবে শীর্ষ বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।