সোমবার লোকসভায় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল, ২০১৯ পাস হওয়ার পরই গন্ধটা পেয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা। স্বাধীনতার গন্ধ। বুধবার রাজ্যসভায় বিলটি পাস হতেই বাধ মানল না উচ্ছ্বাস। ১৯৪৭ সালের পর ভারতের মাটিতে ফের একবার দেখা গেল স্বাধীনতার উদযাপন। অসমে যখন এই বিলের বিরোধিতায় আগুন জ্বলছে তখন বুধবার রাতে দিল্লির ছত্তরপুর থেকে রাজস্থানের জয়সলমিরে পাক হিন্দুদের বসত এলাকায় দেখা গেল অকাল দীপাবলি।  

আরও দেখুন - ভারতমাতার জয়ধ্বনি, ঢাকঢোল থেকে মিষ্টিমুখ, নাগরিকত্বের উচ্ছ্বাস পাক হিন্দুদের

আরও পড়ুন - বন্ধ ইন্টারনেট, জারি কার্ফু, নামছে সেনা, সিএবি বিরোধী বিক্ষোভে রণক্ষেত্র অসম-ত্রিপুরা

আরও পড়ুন - যুগান্তকারী না অন্ধকারময়, দুই কক্ষেই সিএবি পাসের পরও জারি বিতর্ক

আরও পড়ুন - ঐতিহাসিক মুহূর্ত, দ্বিতীয় বাধাও টপকালো নাগরিকত্ব বিল, রইল বাকি রাষ্ট্রপতির সম্মতি

দিল্লির ছত্তরপুর, রাজস্থানের জয়সলমিরে পাক হিন্দু শরণার্থীরা বুধবার রাতে রাস্তায় নেমে বাজি ফাটাচ্ছেন। চলছে দেদার মিষ্টিমুখ। ঢাক, ঢোল, কাঁসা আনন্দে মেতেছেন তাঁরা। একইরকম উচ্ছ্বাসের দৃশ্য দেখা গেল রাজস্থানের সীমান্তবর্তী জেলা জয়সলমিরের পাক হিন্দু শরণার্থীদের মধ্যেও। নাগরিকত্ব বিলে ধর্মীয় ভেদাভেদ করা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু এই বিল পাস হওয়াতে বছরের পর বছর ভারতে বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর তকমা থেকে এই মানুষগুলোর যে মুক্তি ঘটল তা মানতেই হবে।

আর এর মধ্যেই জন্ম নিয়েছে পুঁচকে নাগরিকতা (নাগরিকত্ব)। উত্তর দিল্লির মজনু কা টিলা এলাকায় বেশ কয়েকঘর পাক হিন্দু শরণার্থীর বাস। সেখানকারই এক মহিলার কোলে দুদিন আগেই এক শিশুকন্যা এসেছে। এদিন রাজ্যসভায় নাগরিকত্ব বিল পাস হওয়ার পরই তাঁর নাম রাখা হল নাগরিকতা। নাগরিকতা-র মা জানিয়েছেন, তিনি মনে প্রাণে চেয়েছিলেন সংসদের দুই কক্ষেই যেন নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৯ পাস হয়। সেই আন্তরিক ইচ্ছা পূর্ণ হওয়ার পর নাগরিকতা ছাড়া মেয়ের নাম হিসেবে আর কিছু তাঁর মাথায় আসেনি।

লোকসভায় বিলটি পাস হওয়ার পরই মজনু কা টিলা-র বাসিন্দাদের আনন্দ করতে দেখা গিয়েছিল। ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে ভারতমাতার নামে জয়ধ্বনি দিতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন প্রায় চার দশকের বেশি সময় তাঁরা ভারতে আছেন। সম্মান রক্ষার্থেই পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসেছিলেন। এই দেশের মানুষ হিন্দু, তাঁরাও হিন্দু। কাজেই ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়া তাঁদের অধিকার।

এদিন রাজ্যসভায় নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও নাগরিকত্ব বিলের পক্ষে ১২৫ টি ভোট পডড়ে। আর বিরুদ্ধে ভোট পড়ে ১০৫টি। এরপর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ সম্মতি দিলেই নাগরিকতা-রা রাতারাতি বেআইনি পাক শরণার্থী থেকে ভারতীয় হয়ে উঠবে।