অযোধ্যায় রাম মন্দিরের 'ভূমি পূজন' অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে যোগ দিলে, তিনি তাঁর 'সাংবিধানিক শপথ' লঙ্ঘন করবেন। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানের মূল কাঠামোর অন্যতম প্রধান অংশ। রামমন্দিরের ভূমি পূজন অনুষ্ঠানের ঠিক আগে, মঙ্গলবার এই বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা জানালেন এআইমিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি।

একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে তিনি অযোধ্যার জমি বিতর্ক মামলা এবং তার রায়, বাবরি মসজিদ ভাঙা এবং রামমন্দির নির্মাণ ও তার ভূমি পূজো নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অযোধ্যার মাটিতে বাবরি মসজিদ দাঁড়িয়েছিল। ১৯৯২ সালে দূষ্কৃতীবাহিনী সেই মসজিদ ভেঙে ফেলেছিল। এই কলঙ্কের ইতিহাস কোনও ভারতীয় মুসলমান ভুলতে পারে না, বলে দাবি করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন অযোধ্যার ওই জমিতে রাম মন্দির নির্মাণ হওয়ার পরও তাঁর কাছে ওই জায়গাটি বাবরি মসজিদ হিসেবেই থাকবে। এটা তাঁর বিশ্বাস। তা তাঁর কাছ থেকে আদালতের রায়-ও কেড়ে নিতে পারবে না। তাঁর মতে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর মসজিদটি ভেঙে না ফেলা হলে, সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যার জমি বিতর্ক মামলার এই রায় দিত না। রায় অন্যরকম হতো। বিতর্কিত জমির অধিকার পেতেন না রামলাল্লা।  

ওয়াইসি যতই নরেন্দ্র মোদীর অযোধ্য়ায় রাম মন্দিরের ভিত পূজোর বিরোধিতা করুন না কেন, মন্দির প্রাঙ্গন এবং অযোধ্যায় কিন্তু এই মুহূর্তে ভিত পূজা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। ৪ ও ৫ আগস্ট রাম মন্দির নির্মাণের সূচনা উদযাপনের জন্য অযোধ্যার সমস্ত  মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে প্রদীপ জ্বালার নির্দেশ দিয়েছেন এদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। শনিবারই রাম মন্দির নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে অযোধ্যায় ঝটিকা সফরে এসেছিলেন তিনি। শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের এক সদস্য জানিয়েছেন তাঁদের অনুমান, ২০২৩ সালের মধ্যেই মন্দিরটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।