আপনি করোনাভাইরসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর মহামারির সঙ্গে যুদ্ধে আপনি জিতেও গেছে। কিন্তু তারপরেও আপনি নিশ্চিন্তে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে পরবেন না। কিরণ মারাত্মক ছোয়াছে এই জাবাণুর কারণে জীবনের ঝুঁকি অনেকটাই থেকে যাচ্ছে। তাই রবিবার কেন্দ্রীয় সরকার, করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার রোগীদের জন্য একটি নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে যেসব রোগীরা অসুস্থতা কাটিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছে তাদের মধ্যে ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, কাশি, গলা ব্য়থা, শ্বাসকষ্টের মত লক্ষণগুলি থেকে রয়ে যেতে পারে।  নতুন একটি প্রটোকল জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

নতুন নিয়নবিধিতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের যদি অন্য কোনও রোগের পূর্ব ইতিহাস থাকে তাহলে তাদের শরীরে করোনার সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। 
সুস্থ হয়ে যাওয়ার রোগীদের মধ্যে ক্লান্তি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা, কাশি, গলা ব্য়থা, শ্বাসকষ্টের মত লক্ষণগুলি থেকে রয়ে যেতে পারে। 
সংক্রমণের পর স্বাভাবিক হওয়ার জন্য যোগব্যায়াম, প্রাণায়াম ও নিয়মিত হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 
শারীরিকভাবে সক্ষম হলে তবেই করোনা বাড়ির কাজ করা উচিৎ। 
করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে অফিসের কাজের চাপ না নেওয়াই ভালো, ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা বাড়ানো উচিৎ। 
বাড়িতে বসেই নিয়মতি স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নিয়মিত শরীরের তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করা, রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি।
চিকিৎসকের পরামর্শে অক্সিমিটারের মাধ্যমে অক্সিজেনের রিডিং নেওয়া জরুরি। 
ডায়াবেটিশ রোগীদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করে দেখতে হবে। 
আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তার ঘনিষ্ট আত্মীয়পরিজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে অভিজ্ঞতার কথা বলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারেন। 
আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের অভিজ্ঞতার কথায় সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করতে পারেন। 
করোনা আক্রান্ত বা সুস্থ হওয়া ব্যক্তিরা শুধুমাত্র যোগ্যতা সম্পন্ন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী বা পেশদারদের কাছ থেকেই পরামর্শ গ্রহণ করতে পারবেন। 
করোনা আক্রান্ত যেসব রোগীরা বাড়িতে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন তাঁরা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীদের কাছ থেকে জরুরি পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। গুরুতর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও পথ্য় সবই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা প্রদান করবেন। 
প্রয়োজনে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন। 

চোখ রাখুন দিল্লির একটি কোভিড সেন্টারে

 


করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । কোভিড পরবর্তী ম্যানেজমেন্ট প্রোটোকলের বিষয়টি এলো কারণ দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সাত দিনে দেশে দৈনিক ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন করোনাভাইরাসে।