মঙ্গলবার বিকেল থেকেই চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লক-আপ বাস এড়াতে পারলেন না প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। বুধবার রাতেই তাঁকে গ্রেফতার করল সিবিআই। সিবিআই-এর সদর দফতরেই ডাক্তারি পরীক্ষার পর হাল্কা জিজ্ঞাসাবাদ চলে। আর তারপর রাতে তাঁকে রাখা হয়েছে সিবিআই-এর লক-আপে। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে সিবিআই।

এদিন রাত সোয়া নটা নাগাদই চিদম্বরমের নয়াদিল্লির জোড় বাগের বাড়িতে পৌঁছে যান সিবিআই কর্তারা। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই সেখানে হাজির হন ইডির কর্তারাও। দুই সংস্থাই বাসভবনেই চিদম্বরমকে একপ্রস্থ জেরা করেন। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে নেতার বাসভবনের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন দিল্লির কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা। তাদের মধ্য দিয়েই সিবিআই দফতরে তুলে আনা হয় প্রাক্তন অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে।

প্রথমে ঠিক ছিল স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে আরএমএল হাসপাতালে। পরে গোলমালের আশঙ্কায় পরিকল্পনা বদলায় সিবিআই। তাঁকে সরাসরি সদর দফতরেই আনা হয়। সেখানে ততক্ষণে উপস্থিত হয়েছিলেন সিবিআই-এর ডিরেক্টর আর কে শুক্লা। রাত ১০ টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর তাঁকে সিবিআই দফতরের এক বিশেষ ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাজির ছিলেন সিবিআই-এর তদন্তকারী ও অন্যান্য অফিসাররা। আরও একপ্রস্থ জিজ্ঞাসাবাদ চলে। তারমধ্যেই সিবিআই দফতরে এসে পৌঁছান চিকিৎসকদের একটি দল। সিবিআই দফতরেই কংগ্রেস নেতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর তাঁকে লক-আপে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে সম্ভবত রাউস অ্যাভিনিউ-এর  সিবিআই আদালতে পেশ করা হবে।

রাতেই সিবিআই দফতরের সামনে গোলমালের আশঙ্কায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে তৈরি রাখা হয়েছে জল-কামানও। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে প্রথমে সিবিআই দফতরের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কৌশল বদল করা হয়।

কপিল সিব্বল, অভিষেক মনু সিংভি, সলমন খুরশিদদের মতো আইনজীবী নেতারা দলীয় নেতৃত্বকে জানান, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, তাই এখন এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখানো ঠিক হবে না। বরং আইনি পথেই লড়াই করা ভাল। পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরম সকাল ৬.১০-এর বিমানেই চেন্নাই থেকে দিল্লি এসে পৌঁছবেন বলে জানা গিয়েছে।