সঙ্কটে কর্ণাটক সরকার। আর তাই তিনি আস্থাভোটে যেতে চান। বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে এই কথা সাফ জানিয়ে দিলেন কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী। বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের মধ্যেই সকলের সামেন এই বয়ান দেন তিনি। তাঁর মতে, রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে এর জন্য সময়ও চান। যদিও, এখনও পর্যন্ত এই নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে কোনও কাগজপত্র জমা করেননি তিনি। 

কর্ণাটকে সরকার বাঁচাতে এখন মরিয়া লড়াই চালাচ্ছেন কুমারস্বামী। তিনি জানান, 'পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। কিছু বিধায়ক এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে যারজন্য এই পরিসস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমি এখানে সারাজীবনের মতো আসিনি। আমি যে কোনও কিছুর জন্যই তৈরি।'

কুমারস্বামীর এই বয়ানের পর বিধানসভা এক জরুরি বৈঠকে বসেন বিরোধী দলনেতা বিজেপি বি এস ইয়েদুরাপ্পা। সেখানে সমস্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। মনে করা হচ্ছে আস্থা ভোট সত্যি সত্যি হলে তার ব্লুপ্রিন্ট এখন থেকেই সাজিয়ে রাখছেন ইয়েদুরাপ্পা। 
 
প্রসঙ্গত, বুধবার বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে মু্ম্বইয়ে যান কর্নাটকের জল সম্পদ মন্ত্রী শিবকুমার। কিন্তু মু্ম্বইয়ের যে পাঁচতারা হোটেলে সেই ১০ বিদ্রোহী বিধায়ক রয়েছেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি শিবকুমারকে। এমনকী শিবকুমারের বিরুদ্ধে 'গো ব্যাক' স্লোগানও ওঠে। পরে মহারাষ্ট্রপুলিশ তাঁকে আটকও করে এবং মুম্বইয়ের সেই হোটেলের সামনে ১৪৪ ধারা লাগু করে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বুধবার দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। কর্ণাটকে কংগ্রেস ও জেডিএস-এর থেকে মোট ১৬ জন বিধায়ক পদত্যাগ করেছেন। এরমধ্যে ১৩ জন শুধুমাত্র কংগ্রেস থেকে। বাকি ২ জন নির্দল বিধায়ক। এই নির্দল বিধায়কদের ধরে মোট ১৮ জন জোট সরকার ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন। তবুও এই সঙ্কটকালীন পরিস্থিতিতে হার মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী।